বরাদ্দ থাকলেও ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলে

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০৯:৫২
উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানিও নামতে শুরু করেছে। তবে এসব জেলার দুর্গম চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসনের দাবি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি না হওয়া ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোর কোনো উপায় না থাকায় ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছেনা। তবে দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্পিডবোটে করে ত্রাণ বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। সেটাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ত্রাণবিতরণ নিয়ে ডেস্ক রিপোর্ট।
IMG0
দিনাজপুর অফিস: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ জেলায় এখনো পর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ১৬২ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আরো ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আনম এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
তবে প্রত্যন্তগুলোতে অঞ্চলগুলো এখনো ত্রাণ পৌঁছাতে দেখা যায়নি। প্রশাসনের দাবি, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছে। সরকারিভাবে ৩৬৯টি ত্রাণ খোলা শিবির খোলা হয়েছে।
 
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যার্তদের। বুধবার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলার অভ্যান্তরীণ রুটের সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ধ্বসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। রেল সেতু সংস্কার না হওয়ায় বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ। পানিবন্দী ৪ লাক্ষাধিক মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় অল্প বন্যার্তের ভাগ্যে জুটলেও অধিকাংশের ভাগ্যেই তা জুটছে না।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সড়ক ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প নৌপথে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৬৫২ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল ও ৫০ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।
IMG1
গাইবান্ধা: এ জেলার প্রশাসন বলছে, এ পর্যন্ত ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৫০ মেট্রিক চাল ও সাড়ে তিন লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানিয়েছে, বন্যার্তদের তালিকা করা হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই যত দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে। ত্রাণের তালিকা তৈরি না হওয়ায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ঠিকমতো করা যাচ্ছেনা।
 
নীলফামারী: এ জেলা সংলগ্ন নদ-নদী ও এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। প্রশাসন থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত ছয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। জেলায় ১৮ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন চাল ও আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. খালেদ রাহিম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
IMG2
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ২৪২ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ ৭৫ হাজার বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ১ লাখ ২শত পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতোমধ্যেই সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের ধরলা নদীর তীরবর্তী চারটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর জানিয়েছে, বন্যা দুর্গত এলাকায় ২৪২ মে.টন চাল ও  ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তবে এ জেলারও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছানো নিয়ে বিতর্কে আছে বন্যার্ত ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে।
 
ইত্তেফাক/এএম।