আজকের পর হজ ভিসা বন্ধ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০৮:৩৪
 
হজ যাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আজ। সৌদি দূতাবাস ঘোষণা দিয়েছে আগামীকাল থেকে এবছরের জন্য হজ ভিসা ইস্যু বন্ধ। এখনো বাকি ১০ হাজার ভিসা। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভিসার আবেদন জমা দেয়নি এজেন্সিগুলো। ৩ হাজার ৭৬৬ জন হজযাত্রীর মোফা সেন্ড হয়নি। অতি মুনাফার লোভে যেসব এজেন্ট ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করেছিল তাদের কোন সুরাহা হয়নি। রিপ্লে­সমেন্ট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যেসব হজ গমনেচ্ছু এধরনের অসাধু বিভিন্ন এজেন্সিকে টাকা দিয়ে হজে যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা পড়েছেন বিপাকে। ফলে বহু হজ গমনেচ্ছুর সৌদি যাত্রা সম্ভব হবেনা বলে জানিয়েছেন একজন হজ এজেন্সি কর্মকর্তা। গতকাল পর্যন্ত মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৭৮১ জন হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে।
 
হজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ’হাব’ এর মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তাসলিম ইত্তেফাককে বলেন, ভিসার জন্য আজকের দিনটাই সময় আছে। এখনো দশ হাজার হজযাত্রীর ভিসা হয়নি। সারারাত হজ অফিস খোলা থাকবে। ভিসার আবেদন জমা দেয়া যাবে। তিনি বলেন,সব হজযাত্রীকে পরিবহন করার দায়িত্ব বিমান এবং সাউদিয়া এয়ারের। তারা আশ্বস্ত করেছে সকল ভিসাপ্রাপ্ত যাত্রীদের সৌদি আরবে পৌছাতে পারবে।
 
হাব-এর একজন সিনিয়র নেতা জানান, শেষ পর্যন্ত কিছু এজেন্সি হজ যাত্রীদের জন্য ভিসার আবেদন করবে না। কারণ তাদের মধ্যে ঘাপলা রয়েছে। তাদের অধীনে ৪ হাজারের মতো হজ গমনেচ্ছু রয়েছেন। হজ পরিচালক সাইফুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, সব হজযাত্রী হয়তো শেষ পর্যন্ত হজে যেতে পারবেন না। নানা সমস্যা এবং জটিলতায় যারা পড়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা হবে। তিনি দাবি করেন যে, নানা কারণে অন্যান্যবারও ২-৪ ভাগ হজযাত্রী যেতে পারেন না। তিনি বলেন, এবার কতজন যেতে পারবেন না তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। যারা আবেদন করবেন তারা আজ ভিসা পেয়ে যাবেন।
 
এদিকে হজ ক্যাম্পের তথ্য অনুযায়ী গতকাল দুপুর পর্যন্ত এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর মধ্যে ৬৮ হাজার ৫১৬ জন হযযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এখনো ৫৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে পরিবহন করতে হবে বিমান এবং সাউদিয়া এয়ারকে। ই-ভিসা জটিলতা এবং সিন্ডিকেট চক্রের কারণে এপর্যন্ত ২৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এই ফ্লাইট বিপর্যয়ের পর এখন বাড়তি চাপ সামলাতে এখন কয়েকটি রুটে বিমান তাদের নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত করে সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এত কিছু করেও আগামী দশ দিনে ৫৮ হাজার হজযাত্রীকে সৌদি আরব নিতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন নিজেও সন্দিহান। কারণ ২৬ আগস্ট বিমানের সর্বশেষ হজ ফ্লাইট যাওয়ার কথা। মন্ত্রী জানিয়েছেন, হজ ফ্লাইটের সময়সীমা ২৬ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত করতে সৌদি আরবের ‘জেনারেল অথোরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন’-এর প্রতি অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হবে। নতুন পাওয়া ১৪টি স্লটের অতিরিক্ত আরো সাতটি স্লট পরিচালনা করতে আগস্ট থেকে বিমানের আবুধাবির দু’টি, ব্যাংককের তিনটি, দোহার পাঁচটি, দুবাইয়ের একটি, কাঠমান্ডুর দু’টি, কুয়ালালামপুরের একটি, লন্ডনের তিনটি, মাসকাটের একটি, রিয়াদের তিনটি ও দাম্মামের দু’টি ফ্লাইট বাতিল অথবা কমিয়ে আনা হবে। সেই সাথে মালয়েশিয়া থেকে লিজকৃত একটি এয়ারক্রাফট ২০ আগস্ট থেকে হজযাত্রী পরিবহন করবে।
 
ইত্তেফাক/এমআর