ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া কয়েকশ’ মানুষ এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। কোচবিহার জেলার অন্তত দুটি এলাকা থেকে বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের একজন মন্ত্রী। লালমনিরহাট থেকে বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোরশেদ জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী ভারতীয় গ্রামগুলো থেকে বন্যাক্রান্ত হয়ে ৫ থেকে ৬শ লোক এসেছিল। মানবিক কারণেই তাদেরকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়নি।
কোচবিহার থেকে নির্বাচিত রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, জারিধরলা আর দরিবস এলাকায় প্রায় ছয় হাজার মানুষ থাকেন। নদীতে এমন স্রোত, যে এত লোককে উদ্ধার করে নিয়ে আসা অসম্ভব। ত্রাণও পৌঁছনো যাচ্ছে না। সেজন্যই তারা বাংলাদেশের দিকে চলে গেছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমাদের নাগরিকদের বিপদের দিনে তারা ত্রাণ দিয়ে সাহায্য করছেন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বন্যার পানি কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল এমন কিছু মানুষ আবারও ফিরতে শুরু করেছেন। বিজিবি কর্মকর্তা গোলাম মোরশেদও বলছেন, যারা আশ্রয় নিতে এসেছিল, তাদের বেশিরভাগই ভারতে ফিরে গেছেন।
IMG0
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় ২৫০ জনের মৃত্যু
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় লাখ লাখ মানুষ এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। বিবিসি’র এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসাম, মেঘালয়, বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। নেপালে এখন পর্যন্ত ১১১ জন মারা গেছেন। আরো ৩৫ জন নিখোঁজ আছেন। বাংলাদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর
