বেসিক ব্যাংক নিয়ে আপিল বিভাগ

আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক এন্ড চুজ’ নয়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১৮:৪৪
বেসিক ব্যাংকের দুটি ঋণ জালিয়াতির মামলায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদকে আসামি না করে মামলা করায় উষ্মা প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 
 
আদালত বলেছেন, আমরা চাই না এ ধরনের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসামি করার ক্ষেত্রে ‘পিক এন্ড চুজ’ পদ্ধতি অবলম্বন করুক। কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আপিল বিভাগ বলেন, কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা যেন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। তদন্তে কোন গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক আসামির জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে এসব কথা বলে আপিল বিভাগ। 
 
৭৫ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালে নগরীর মতিঝিল থানায় দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অসৎ উদ্দেশে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে আসামিরা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই মামলার অন্যতম আসামি হলেন বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ও ব্র্যাঞ্চ ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী। হাইকোর্ট দুটি মামলায় তাকে অন্তবর্তিকালীন জামিন দেয়। 
 
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই জামিন স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। গত ১০ আগস্ট দুদকের জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে মামলা দুটির নথি তলব করে আপিল বিভাগ। 
 
বৃহস্পতিবার মামলা দুটির তদন্ত সংক্রান্ত নথি আদালতে উপস্থাপন করেন দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 
 
শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলা দুটিতে কারা আসামি হিসাবে রয়েছেন? এ পর্যায়ে দুদক কৌসুলি এজাহার থেকে আসামিদের নাম পড়ে শোনান। প্রধান বিচারপতি বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কি আসামি করা হয়েছে? জবাবে দুদক কৌসুলি বলেন, একজন পরিচালককে আসামি করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, চেয়ারম্যানসহ বাকিরা কোথায়? দুদক কৌসুলি বলেন, তদন্ত চলছে। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে অবশ্যই নাম আসবে।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা চাই না ‘পিক এন্ড চুজের’ ভিত্তিতে আপনারা মামলায় আসামি করেন। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্য সমান। আর সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। এটার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে। 
 
প্রধান বিচারপতি দুদক কৌসুলিকে বলেন, আপনারা এই টাকা আদায় করুন। আইনজীবী বলেন, টাকা আদায় করা তো আমার আওতার বাইরে। আমি অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা ও তদন্ত করতে পারি। প্রধান বিচারপতি বলেন, তদন্তে যেন কোন গাফিলতি না হয়। মামলাগুলো আমরা মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখছি। এ পর্যায়ে আসামির আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, আমি তো শুধু ঋণ দেয়ার জন্য একটি সাদা কাগজে সুপারিশ করেছি। এতে আমার অপরাধ কোথায়?
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন আপনি সুপারিশ করেছেন? দুদক কৌসুলি বলেন, শুধু সুপারিশই নয় তার বিরুদ্ধে সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এজাহারে। পরে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মামলারি শুনানি মুলতুবি করে আদালত।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি