‘নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন’- বিএনপির মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোন মতামত থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসে বিএনপি আলোচনা করতে পারে।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়।এখানে সরকারের কোনো এখতিয়ার নেই। নির্বাচনের সময় সরকারের কোনো ক্ষমতা থাকে না। ক্ষমতা চলে যায় নির্বাচন কমিশনের হাতে। এমনকি নির্বাচনকালীন থানার কোনো ওসিকে বদলি করার ক্ষমতা সরকারের থাকে না। তাই নির্বাচন নিয়ে কোনো মতামত বা পরামর্শ থাকলে বিএনপিকে বলবো তা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করুন। এক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোন প্রয়োজন নেই।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।
বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ সম্ভব নয় দাবি করে তিনি বলেন, যারা ১৫ আগস্টের মতো এমন শোকাবহ দিনে কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন করে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করে, যারা জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা ও পৃষ্ঠপোষক, যারা পেট্রোলবোমা হামলা করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তাদের (বিএনপি) সঙ্গে কখনোই সংলাপ হবে না।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রথমে আপনি আপনার জন্ম তারিখ ঠিক করুন। ইউরোপ-আমেরিকার কোনো দেশ হলে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জন্মদিনের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখের জন্য এতাদিনে আপনি রাজনীতি করার যোগ্যতা তো হারাতেন পাশাপাশি আপনার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতো।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে মির্জা ফকরুল বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নাবালকের মতো বক্তব্য রাখছেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেশের সরকার প্রধান ও মন্ত্রীরা দেখা করবেন এটি খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার বরং দেখা না করাটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব যেভাবে এ নিয়ে বক্তব্য রাখছেন তা দেখে রাজনীতবিদ হিসেবে তো আমরা লজ্জা পাচ্ছি। বিএনপির অনেকেই লজ্জিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়া ও তার দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সংস্কৃতি ধারণ করে না।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ৩০০ মিটারের মধ্যে জঙ্গি তৎপরতা দেশের বিরুদ্ধে অনেক বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, যে জঙ্গি মারা গেছে সে শিবির করতো এবং তার বাবা জামায়াতের নেতা। আর এগুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত-শিবির এখন খোলস পাল্টে জেএমবি ও নব্য জেএমবি নাম ধারণ করেছে।
সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান দুর্জয়ের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বলরাম পোদ্দার, মেজবাউদ্দিন শফীসহ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি
