গোপালগঞ্জে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৫৪
 
গোপালগঞ্জে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম কারাগারে। কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল নায়েবুন্নেছা ইনস্টিউশনে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ কাশিয়ানী আমলী আদলতে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন।
 
ওই আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ৩ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। কাশিয়ানী থানা পুলিশ এ আদেশ হাতে পেয়ে গত ১০ আগস্ট ওই প্রধান শিক্ষককে কাশিয়ানী থেকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। গত ১৬ আগস্ট এ মামলার নির্ধারিত শুনানির দিনে প্রধান শিক্ষক জেল থেকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিয়ার রহমান জামিন না মঞ্জুর করেন।
 
মামলার বিবরণে জানা গেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম, ফ্রি হাফ ফ্রি ফরম, প্রোগ্রেসিভ রিপোর্ট বিক্রি, প্রশংসাপত্র, সনদপত্র, সিলেবাস  বিতরণ, জরিমানা আদায়, শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির সরকারি টাকা কর্তন, বইয়ের কমিশন ও বিনামূল্যের বই বিতরণে টাকা আদায় করে মোট ৫ লাখ ২৭ হাজার ছয়শ' ৩৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
 
স্কুলের সভাপতি ডেভিড সুরঞ্জন বিশ্বাস ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেনকে অডিটর নিয়োগ করে আভ্যন্তরীণ অডিট করার দায়িত্ব প্রদান করেন।
 
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন অডিট শেষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ছয়শ' ৩৫ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পান। তিনি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন।
 
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, টাকাগুলো স্কুলের সাধারণ তহবিলে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এ টাকার কোন হিসাব দিতে পারেন নি। এটি চাকরির বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে আমার কাছে কাছে লিখিত দিয়েছেন। এ টাকা ফেরত চেয়ে আমরা তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। তিনি এ লিগ্যাল নোটিশের কোন জবাব দেন নি। পরে তার বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি।
 
ইত্তেফাক/জামান