উড়ুক্কু গাড়ির দৌড়ে কোথায় জাপান!

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৭, ০২:২০


বিশ্বের বেশিরভাগ মেগা শহরে যানজট একটা নিত্য দিনের চিত্র। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কারণে নষ্ট হয় কর্মঘণ্টা, জ্বালানি। তবে এই যানজট থেকে মুক্তি দিতে অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান উড়ুক্কু গাড়ি আনার ঘোষণা দিয়ে চমক সৃষ্টি করে আসছে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর চলচ্চিত্রে উড়ুক্কু গাড়ির ব্যবহার দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবে কেউ উড়ুক্কু গাড়ি বাজারে আনতে সক্ষম হয়নি। তবে জাপানের একদল বিনিয়োগকারী ২০২০ সালের সামার অলিম্পিকের আগেই টোকিওতে উড়ুক্কু গাড়ি দেখতে চান।

এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা অন্যতম। টোকিও ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দি কার্টিভেটর প্রোজেক্টই এই উদ্যোগে সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করছে। কার্টিভেটরের ডিরেক্টর রাইতারু মোরি বলেন, উড়ুক্কু এই গাড়িকে স্কাইড্রাইভ নামে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে তিনটি চাকা, চারটি রোটর এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এটি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে চলতে সমর্থ হবে। এটি লম্বায় সাড়ে ৯ ফুট, ৪.২ ফুট চওড়া এবং৩.৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট। এক জনের চলার উপযোগী এই উড়ুক্কু গাড়িটিকেই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গাড়ি হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। যানজট এড়িয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার চিন্তা থেকে বহুদিন ধরেই নানা প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে আসছে। উড়ুক্কু যানের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি কেউ-ই।

জাপানের মতোই আগামী তিন বছরের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে উড়ুক্কু যান আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার। ড্রোনের সাহায্যেও মানুষ পরিবহনের কথা এর মধ্যে বেশ আলোচিত হয়েছে। এ উড়ুক্কু যানের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে এদিক দিয়ে অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে এয়ারবাস। সমপ্রতি এয়ারবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাফল্যের অনেকটাই দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন তারা। এক ধরনের পপ আপ ব্যবস্থায় বদলে যেতে পারে পুরো প্রক্রিয়াটি। দুই জন যাত্রী বহনের উপযোগী এই যান তৈরির জন্য কোয়াডকপটারের নিচে এক সেট চাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। আর এই প্রকল্পের কারিগরি দিকটি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইডালডিজাইনকে।

অন্যদিকে উড়ুক্কু যান প্রকল্পের জন্য উবার নিয়োগ দিয়েছে নাসার সাবেক প্রকৌশলী মার্ক মুরেকে। মার্ক মুরে ‘উবার এলিভেট’ বিভাগের এভিয়েশন প্রকৌশলী পরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন। উবারের এই যানটি এর কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরু হবে ২০২৩ সালে। এই উড়ন্ত গাড়ি প্রদর্শনের জন্য তারা ডালাস এবং দুবাই শহরের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে। আর এই উড়ন্ত গাড়ি উন্নয়ন এবং সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে অ্যাভিয়েশন কোম্পানির সাথে চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বাস্তবতা বিবেচনা করলে এই ইঁদুর দৌড়ে জাপানকেই সবার থেকে এগিয়ে রাখা যায়। ২০১২ সালে উড়ুক্কু গাড়ির নকশা তৈরি করে বিজনেস অ্যাওয়ার্ড জেতার পর সুবাসা নাকামুরা গঠন করেছিলেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কার্টিভেটর। এর দুই বছরের মাথায় আকাশ পথে গাড়ি চালানোর জন্য স্কাইড্রাইভের ধারণাটির জন্ম হয়। ঐ সময়ে কাঙ্ক্ষিত আকারের এক পঞ্চমাংশ আকারের একটি নমুনা গাড়ির মডেলও তারা তৈরি করে পরীক্ষা চালান। এখন এই প্রকল্পে ৩০টির মতো স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ যুক্ত হয়েছে। কেউ প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করছে তো কেউ অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে। ২০২০ সালের সামার অলিম্পিকে এই গাড়িতে চড়ে মশাল প্রজ্জ্বলনের জন্য রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে তারা। এজন্য ২০১৮ সালের মধ্যেই রিমোট নিয়ন্ত্রিত প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা করছে দলটি।-সিএনএন

ইত্তেফাক/নূহু