নয় বছরেও চালু করা যায়নি কারখানা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৭, ১১:৩০
 
গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় লিয়েনটেক্স নামে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টসের একটি কম্পোজিট কারখানা ২০০৮ সালে স্থাপন করা হয়। যথাসময়ে মেশিনপত্র এনে উত্পাদন কাজ চালানোর প্রস্তুতি থাকা সত্বেও গ্যাস না পাওয়ায় এখনো চালু করা যায়নি ডায়িং অংশটি। গ্যাসের অভাবে বস্ত্র শিল্পের এরকম বহু কারখানা যথাসময়ে চালু করা যায়নি। এখনো চালুর অপেক্ষায় বেশকিছু কারখানা। এসব উদ্যোক্তা বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও প্রতিকার চাওয়ার উপায় নেই। ফলে অনেক উদ্যোক্তাই বিনিয়োগ সমপ্রসারণ কিংবা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। 
 
নারায়ণগঞ্জের এমএস ডায়িং ফিনিশিং এন্ড প্রিন্টিং লিমিটেড নামে একটি কারখানার কার্যক্রম সমপ্রসারণের চিন্তা করা হলেও আপাতত তা হচ্ছে না। গ্যাস সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা সমপ্রসারণের চিন্তা থেকে সরে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারখানার অন্যতম উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএ’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
 
তার মত টেক্সটাইল খাতের এমন অনেক উদ্যোক্তা (ডায়িং ও ওয়াশিং) বিনিয়োগ সমপ্রসারণে যাচ্ছেন না কিংবা নতুন বিনিয়োগ করছেন না। শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গ্যাস সংকট চরমে। নতুন করে শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ হচ্ছে না বললেই চলে। অন্যদিকে বিদ্যমান কারখানায়ও গ্যাস আছে নামেমাত্র। কারখানার কর্মঘণ্টায় (পিক আওয়ার) গ্যাস পাওয়া যায় না। কোন কোন এলাকায় কিছুটা পাওয়া গেলেও গ্যাসের চাপ থাকে খুবই কম। যার মাধ্যমে স্বাভাবিক কাজ করা যায় না।
 
টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম বড় শিল্প গ্রুপ রাইজিং গ্রুপও গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকটের কারণে বিনিয়োগ সমপ্রসারণের চিন্তা থেকে সরে এসেছে। গাজীপুরে সিম্প টেক্স নামে একটি কারখানার জন্য গ্যাসের আবেদন করা হলেও সংযোগ মেলেনি। ফলে ডিজেলের উপর ভর করেই চলছে কারখানাটি। কারখানার উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সংযোগ থাকলে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বিল আসত। কিন্তু এখন ডিজেলে মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা।
 
গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলাপ করে একই চিত্র পাওয়া গেছে। কেউ কেউ সিলিন্ডারের মাধ্যমে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস এনে উত্পাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাতেও অনেক সমস্যা। ইদানিং সে পথটিও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর এ পদ্ধতিতে গ্যাস নেওয়া আইনসিদ্ধও নয়।
 
আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় স্টারলিং লন্ড্রি লিমিটেড নামে একটি কারখানার প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার জহুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, সকাল ৫টার পর থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। ২০১২ সাল থেকে এ সমস্যা শুরু হলেও বর্তমানে অবস্থা বেশি খারাপ। আগে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস পাওয়া গেলেও এখন তাও পাচ্ছি না। ফলে এক হাজার ছয়শ’ শ্রমিকের এ ওয়াশিং কারখানাটিতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলভিত্তিক বয়লারের মাধ্যমে ওয়াশিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে। খরচও বাড়ছে অনেক। বারবার বলা সত্বেও কাজ হয়নি।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভারের নবীনগর থেকে নয়ারহাট কোহিনূর গেইট (ধামরাইয়ের আগে) পর্যন্ত এ এলাকার গ্যাস লাইনটি অনেক পুরনো। এতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে খুবই কম।
 
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র হিসাবে গত কয়েক বছর ধরে এ পর্যন্ত ১৩৫টি কারখানার জন্য গ্যাসের নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে। এর মধ্যে অনুমোদন মিলেছে মাত্র ১৪টির। ৬০টি কারখানার নতুন সংযোগের আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন পাওয়া গেছে ৫টির। আর ৭৫টি কারখানার লোড বাড়ানোর আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন মিলেছে ৯টির। বিজিএমইএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্যোক্তারা এখন আর বিজিএমইএ’র কাছে আবেদনও করেন না। কারণ, তারা মনে করেন, আবেদন করেও লাভ নেই।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর