তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা প্রকাশ করার মতো ক্ষমতা আমার নেই। তিনি আমাদের অভিভাবক, আমাদের চলচ্চিত্রের অভিভাবক। তার অনুপস্থিতি আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের জন্য কতটা দুঃখের সেটা হয়তো চলে বোঝা যাবে না, তবে এটাই বলবো তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। বেশকিছু ছবিতে ওনার সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন, আর আমি কতটা ভালোবাসি, তা আমি কাল ওনার মৃত্যুর খবর পেয়ে বুঝেছি।
মুক্তিযুদ্ধের আগে বাংলা ছবিকে এগিয়ে নিতে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তাতে সামনের সারিতে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের নায়কদের নায়ক ছিলেন, জনগণের নায়ক ছিলেন। আমরা যারা অভিনয় করে এ পর্যায়ে এসেছি, তার আদর্শ অনুসরণ করে এসেছি। আগামী প্রজন্মে যারা সিনেমাতে আসবেন তার অভাব অনুভব করবেন।
নায়করাজ নামটি তাকে এমনি এমনি দেওয়া হয়নি। তার অনবদ্য অভিনয়, নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নানাগুণের জন্য তাকে এই উপাধিটা দেওয়া হয়েছিল। তিনি শুধু একজন অভিনেতাই নয়, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশিকিছু ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের যে ক্ষতি হলো তা বলে শেষ করা যাবে বা পূরণও হবে না। একজন অভিভাবককে হারালাম।
ওপরের আবেগঘন কথাগুলো বলছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। নায়করাজের চলে যাওয়া, শিল্পের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, সেটাই জানালেন মৌসুমী।
ইত্তেফাক/আনিসুর
