নায়করাজ রাজ্জাকের স্থান প্রতিটি শিল্পী ও ভক্তের অন্তরে। সেই ভালোবাসা থেকে তাকে নিয়ে অনেকেই সৃষ্টি করেছেন অনেক শিল্পকর্ম। দেশের জনপ্রিয় গীতিকবি প্রিন্স মাহমুদ তাকে নিয়ে লিখেছিলেন একটি কবিতা। ইত্তেফাক অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেই কবিতাটি প্রকাশ করা হলো—
কে তুমি ? প্রজন্ম কি জানে?
তোমার পরে কাউকে গুণতে হলে ১-এর পর সমস্তটাই খালি, কিচ্ছু দেখা যায় না
১০১ থেকে শুরু করা যেতে পারে।
কিং লিয়ার,গড-ফাদারকে
আমাদের মতো করে,
কেউ ভাবেনি কখনও, কেন?
যখন তুমি ৫০-এর পরে
অথচ রবার্ট ডি নিরো, মার্লোন ব্রান্ডো যে সময়ে আসেন অন্য মাত্রায়,
উত্পল দত্ত, উত্তম অমিতাভকে নিয়ে ভাবে ওদের পরবর্তী প্রজন্ম।
তোমায় নিয়ে একটা নায়ক বা জলসাঘর হয়নি কেন?
তবে কি এখানে কেউ ছিল না?
অথবা সময় ছিল না সময়ের মতো।
প্রশ্নটা রইলো,
উত্তর তোমাকেই দিতে হবে এমন নয়।
তবে এ কথা সত্যি তুমি শুধু নিজের নও,
নও তোমার পরিবারের, হে সম্রাট-
হে সাদাকালোয় সম্পূর্ণ রঙিন ‘পাগলা রাজা’ আমাদের।
তুমি ‘রংবাজ’, তুমি ‘বেঈমান’,
‘বাদী থেকে বেগম’কে ভাসাও ‘অনন্ত প্রেমে’।
হল থেকে বের হওয়ার পরও অনেকক্ষণ পর্যন্ত থেকে যাওয়া ভাবনায়-
তুমিই ‘প্রতিনিধি’,
ভেতর-বাহির সমস্ত সত্তায়।
ফিরে ফিরে আসো,
উন্মাতাল স্বপ্ন বেচাকেনার দিনগুলিতে ‘জীবন থেকে নেয়া’ কলমে-
‘আলোর মিছিলে’ একদম সামনের দিকে ।
সৌভাগ্যের বরপুত্র এক...
কে তুমি? প্রজন্ম কি জানে?
আহ, সেই দৃশ্য কাঁচ বোতল হাতে ‘এই পথে পথে’
উপমহাদেশীয় রথী মহারথীদের কত আগেই করেছিলে এন্টিহিরো!
সেই রুপালি পাথর চোখ, রূপালি পর্দায়,
বিস্ময় বিপর্যস্ত উপাখ্যানে,
‘মানুষ যদি মোরে নাই বলও বেঈমান বলও বেঈমান’।
নতজানু ,হতবাক,
আহ সেই কৈশোর, সেই গান-
সেই সাদাকালো রূপালি পর্দায়।
তুমি হিমালয়, দণ্ডায়মাণ এভারেস্ট শৃঙ্গ
তুমি শুরু, তুমিই শেষ।
তুমি অররা, প্যারিক্যুটিন আগ্নেয়গিরি
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, তুমিই দেশ।
প্রজন্ম কি জানে?
সেই বেহুলারা এখনও ভাষায় ভেলা-
লখিন্দর তোমার জন্য, তোমারই জন্য।
প্রজন্ম কি জানে?
তোমার পরে কাউকে গুণতে হলে ১-এর পর সমস্তটাই খালি, কিচ্ছু দেখা যায় না
১০১ থেকে শুরু করা যেতে পারে ...
ইত্তেফাক/আনিসুর
