জীবননগরে টহল পুলিশের উপস্থিতিতে সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের সন্তোষপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে বয়ারগাড়ি নামক স্থানে মঙ্গলবার দিনগত রাত পৌনে একটার দিকে একটি নৈশকোচ ও একটি পিকআপে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতিকালে টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছুলেও পুলিশ ডাকাতি প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতি শেষে ডাকাত দল পালিয়ে গেলে পুলিশ সড়কের ওপর থেকে গাছ সরিয়ে ডাকাতির কবলে পড়া পরিবহনের ড্রাইভারদের চলে যেতে বলেন।
ঢাকা থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা নৈশকোচ জেআর পরিবহানের সুপারভাইজার রঞ্জু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জীবননগরে যাত্রী নামিয়ে দর্শনা যাওয়ার পথে সন্তোষপুরে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা ডাকাতদলের ব্যারিকেডের মধ্যে পড়েন। ডাকাতদল সড়কের পাশের গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় তার সাথে একটি পিকআপও ডাকাতের কবলে পড়ে। ডাকাত দল তার নিকট থেকে ১০ হাজার ৭৫০ টাকা ও ৩ জন যাত্রীসহ ৬ জনের নিকট থেকে ৬টি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। পরে পিকআপে ডাকাতি করে। ডাকাতিকালে টহল পুলিশের একটি পিকআপ অপর দিক থেকে ঘটনাস্থলে আসলেও তারা ডাকাতি প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেইনি।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেণ এবং ডাকাতির কবলে পড়া জেআর পরিবহনের ড্রাইভার মোমিনুল ইসলামের জবানবন্দী গ্রহণ করেন।
টহল পুলিশের এসআই আব্দুল হাই জানান, খবর পেয়ে ২ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌছেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ডাকাতদল পরিবহনের যাত্রী এক রোগীর নিকট থেকে একটি মাত্র মোবাইল ফোন নিয়ে পালায়। তাছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকাতির কথা তিনি অস্বীকার করেন।
থানা অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক ডাকাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তার কাছের টহল পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএম।
