মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যে কোনো মূল্যে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল উঠবেই। এজন্য প্রয়োজনে সরকার বন্ধ হয়ে যাবে। মঙ্গলবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সি শহরে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি কট্টর ডানপন্থীদের প্ল্যাটফরম তৈরি করে দেওয়ার জন্য মিডিয়াকে দোষারোপ করেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছেন তার বিরোধীরা। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেয়াল নির্মানে এবং অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের বাধা হিসেবে আখ্যা দেন। ৮০ মিনিটের বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট দেয়াল নির্মানে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানান। রিপাবলিকানদের অনেকে দেয়াল নির্মানে অর্থ সংস্থানে সমর্থন দিলেও ডেমোক্র্যাটরা বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছেন। কিন্তু সরকারি এই ব্যয়ের জন্য তাদের সমর্থন লাগবে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, অভিবাসন কর্মকর্তারাই তাকে বলেছে, অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে হলে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ছাড়া উপায় নেই। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেয়াল নির্মান করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৬০ কোটি ডলারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এর মধ্যে কংগ্রেসে পাস না হলে পহেলা অক্টোবর থেকে সরকারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। তবে ট্রাম্প বলেন, আমাকে বিশ্বাস করুন সরকার বন্ধ করে হলেও সীমান্তে দেয়াল উঠবেই। কারণ আমেরিকানরা আমাকে দেয়াল নির্মান তথা অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের জন্য ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্প তার ভাষণে নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এরিয়া বা নাফটা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, নাফটা চুক্তির অবসান হবে শিগগিরই। ট্রাম্প গতকাল শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে সহিংসতা নিয়ে তিনি স্পর্শকাতর কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জাতিসংঘের বর্ণবাদ নিরসন কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেছে, দেশটি রাজনীতির উচ্চ পর্যায় বর্ণবাদী আচরণ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। কমিটি ভার্জিনিয়ার উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করে বলেছে, সামপ্রতিক বছরগুলোতে বুরুন্ডি, ইরাক, নাইজেরিয়া এবং আইভোরি কোস্টে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্প যখন সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন পাশেই বিক্ষোভ করছিলেন ট্রাম্পবিরোধীরা। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী এবং বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অভিযোগ করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলেও পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে ট্রাম্পের সমাবেশের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর এবং বোতল নিক্ষেপ করেন। ১০৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যেও মঙ্গলবার ট্রাম্পের পক্ষের এবং বিপক্ষের লোক সমাবেশে এবং সমাবেশের বাইরে জড়ো হন।
ইত্তেফাক/নূহু
