অভিনেতা মোশাররফ করিম। গত কয়েকবছরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত ঈদুল আজহার কাজ নিয়ে। তার সাম্প্রতিক এই ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও দেশের নাটকের অবস্থা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?
ঈদ নাটকে অভিনয় করেই সময় কাটছে। বেশকিছু নাটকের কাজ শেষ করেছি এরইমধ্যে। আরও কিছু নাটকের কাজ করছি। ‘ম্যারেড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম’, ‘মাহিনের নীল তোয়ালে’-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে ‘ম্যারেড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম’ নাটকটির শুটিং ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
আপনি তো এবার নাটকও লিখলেন—
হ্যাঁ, সময় পেলে মাঝে মাঝে লেখা হয়। এবার যেটা লিখেছি সেটার নাম ‘সারপ্রাইজ’। আমি শুধু একা নয়, সাজিন আহমেদ বাবুসহ যৌথভাবে লিখেছি। এটার পরিচালনাও উনি করেছেন।
নাটক ও চলচ্চিত্রে দুই অঙ্গনেই অভিনয় করেন। অভিজ্ঞতার পার্থক্যটা কিভাবে দেখেন আপনি?
অভিনয় করার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। তবে হ্যাঁ, সিনেমায় অভিনয় করাটা বিশাল একটা ব্যাপার। সিনেমায় অভিনয় করতে হলে নিজেকে বেশ জ্বালিয়ে নিয়ে এসে অভিনয়টা করতে হয়। আর যদি বলেন, দৃশ্যগত পার্থক্য, একটা বড় আরেকটা ছোটপর্দায় দেখানো হয়!
আপনার একটি জনপ্রিয় ডায়লগ ‘আবেগে কাইন্দালাইছি’। কখনও নাটক দেখে এমন অনুভূতি হয়েছিল?
এ রকম অনুভূতি আমার হয় না বললেই চলে। তবে দুঃখের গল্প অনুযায়ী কেউ যদি ঠিক অভিনয়টা করতে না পারে তাহলে আমার কাছে দুঃখ লাগে।
আপনার ছবি দিয়ে বিভিন্ন ট্রল বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে অনেকেই। এ বিষয় নিয়ে কী বলবেন?
হ্যাঁ, আমার ছবি দিয়ে বানানো অনেকগুলো ট্রলই আমি দেখেছি। এর মধ্যে বেশকিছু ট্রল দেখে আমার বিরক্ত লেগেছে। আবার অনেকগুলো দেখে মনে হয়েছে যে ভালো হয়েছে!
আপনার জীবনের সেরা পুরস্কার কোনটি?
পুরস্কার পেতে আমার ভালোই লাগে। তবে সেই পুরস্কারগুলোর মধ্যে আমি বেশ কয়েকটি সেরা পুরস্কার পেয়েছি। একদিন এক বৃদ্ধ আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বাবা তোমার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। অথচ লম্বা দাঁড়িওয়ালা এমন পরহেজগার ব্যক্তিরা নাটক খুব কম দেখে। আমি তার ভালোবাসা পেয়ে সেদিন খুবই মুগ্ধ হয়েছিলাম। এটা আমার কাছে অনেক বড় পুরস্কার মনে হয়। আমি দর্শকদের কাছ থেকে যে এতটা ভালোবাসা পাই, তা কখনও প্রকাশের মতো নয়। এর চাইতে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে? আমি কি আসলেই এতটা ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য! এই ভালোবাসাটা পাওয়ার যোগ্য না আমি, আমার মনে হয়েছে। সেটা বলতেই হবে, না বললে অনেক বড় অন্যায় হবে। আমি তো এমন কেউ না, আমি খুবই সাধারণ একজন মানুষ। তবুও এত ভালোবাসে মানুষ।
নতুন যারা অভিনয়ে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
চাইলেই সবাই অভিনয় করতে পারে না। এটা ভালোবাসার জিনিস। এ কাজটা করার ক্ষমতা যদি নিজের কাছে থাকে তাহলে তুমি এই পথে আসতে পারো। অভিনয়টা পরিচর্যার বিষয়, ভালোবাসা দিয়ে এই কাজটি করতে হয়। তবে অভিনয় করার বিষয়টা যদি না থাকে এই পথে না আসাই ভালো।
ইত্তেফাক/আনিসুর
