ব্রাজিলের সরকার খনি অনুসন্ধানে আমাজনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিশাল একটি এলাকা উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য আমাপা ও পারার মধ্যবর্তী ৪৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এই এলাকাটি সোনা ও অন্যান্য খনিজে সমৃদ্ধ বলে ধারণা থাকার কথা জানিয়েছে বিবিসি।
ন্যাশনাল রিজার্ভ অব কপার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট (রেনকা) নামের সংরক্ষিত এলাকাটি বিলুপ্ত করতে একটি ডিক্রি জারি করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের। আয়তনে এলাকাটি ডেনমার্কের চেয়েও বড় এবং এর ৩০ শতাংশ খনি অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, ওই এলাকার ভিতরে থাকা ৯টি সংরক্ষিত এলাকা ও আদিবাসীদের এলাকাগুলো আগের মতোই আইনি সুরক্ষার অধীনে থাকবে।
সরকারের এ পদক্ষেপে ওই সুরক্ষিত এলাকাগুলোর ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়বে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও অধিকার আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ব্রাজিলের খনি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপে সংরক্ষিত বন ও আদিবাসীদের এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ‘নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ তৈরি, দেশের জন্য সম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজের আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সবসময় টেকসই নীতির ওপর ভর করেই এটি চলবে,’ বিবৃতিতে বলেছেন তারা। বিরোধীরা সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছে। “এটি গত অর্ধশতকে আমাজনের ওপর হওয়া সবচেয়ে বড় আঘাত,” পর্তুগিজ ভাষার সংবাদপত্র ও গ্লোবোকে এমনটাই বলেন আমাপা রাজ্যের সিনেটর রেনডল্ফ রড্রিগেজ।
এর আগে গত মাসে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউডব্লিউএফ) ব্রাজিলের সংরক্ষণ বিষয়ক দলের প্রধান সতর্ক করে বলেছিলেন, খনির জন্য উন্মুক্ত করা হলে ওই এলাকায় জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটবে, মরুকরণ হবে, ক্ষতি হবে পানি সম্পদের; জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে এবং ভূমি নিয়ে সংঘাত বাড়বে।
ইত্তেফাক/সাব্বির
