চলে গেলেন টেলি সামাদ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫২

সেলুলয়েড পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যে কোনো দর্শকের মন ভালো করে দিতো। কমেডি নির্ভর রেকর্ডসংখ্যক চলচ্চিত্র করার পর একাধিক সিরিয়াস চরিত্রেও যিনি পর্দা কাঁপিয়েছেন- সেই শক্তিমান কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ অনেকটা নীরবেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা (ইন্নালিল্লাহি.... রাজিউন)। তিনি হূদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।   তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টেলি সামাদের বাইপাস সার্জারি করা হয়। এরপর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর দুই দফা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত বছরের ২০ অক্টোবর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তাঁর বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে।

টেলি সামাদের বড় মেয়ে কাকলী গতকাল বিকালে আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিকে জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তাঁর বাবা। শুক্রবার রাতে হঠাত্ শরীর খারাপ হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রাতেই বাবার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার নয়াগাঁও পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তবে জানাজা ও দাফনের সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

এদিকে টেলি সামাদের মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আরেক শক্তিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান বলেন, ‘চলে তো যেতেই হবে সবাইকে। কিন্তু সবার যাওয়ায় মন কেঁদে ওঠে না। টেলি সামাদের এই চলে যাওয়ায় আমাদের মনটা হুহু করে উঠছে। অথচ আমরা গোটা জাতি কি টেলি সামাদের কাজগুলো সংরক্ষণের জন্য কিছু করেছি?’

চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘খবরটি যখন আমি পাই তখন দুপুরের ভাত খাচ্ছিলাম। গলা দিয়ে আর কিছু নামলো না। আমরা তো শুধু একসঙ্গে অভিনয়ই করিনি, ও ছিল আমার খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। কিছু বলতে পারছি না। চোখ ভিজে যাচ্ছে বারবার।’

টেলি সামাদ ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ নয়াগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবদুস সামাদ। টেলি সামাদের চার ছেলেমেয়ে। দুই মেয়ের নাম কাকলী ও বিন্দু। দুই ছেলে সুমন ও দিগন্ত। বড় ছেলে সুমন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা টেলি সামাদ পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে গান করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। চার দশকে ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৫ সালে সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেন ‘জিরো ডিগ্রি’ চলচ্চিত্রে।

কিছুদিন আগে দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে টেলি সামাদ বলেছিলেন, ‘ইত্তেফাক তার পরিবারের অংশ। তাঁর বাড়িতে প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইত্তেফাক রাখেন তিনি। যখন তিনি ব্যস্ততম অভিনেতা এই ইত্তেফাকেই তার সর্বাধিক খবর ছাপা হয়েছে ।’

প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্যাতিমান অভিনেতা টেলি সামাদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল শনিবার এক শোক বার্তায় তিনি চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনেতা টেলি সামাদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।