ভারতে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত বিতর্কিত ধর্মগুরু বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের সাজা ঘোষণার আগে হরিয়ানার রোহটাক জুড়ে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাজা ঘোষণার জন্য আজ সোমবার জেলের ভেতরেই আদালত বসছে। এর আগে হরিয়ানার পাঁচকুলাতে শুক্রবার সিবিআই আদালত রাম রহিমকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করলে তার হাজার হাজার ভক্ত হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, ট্রেন-বাসও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বাসের নামে এই ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না। খবর বিবিসি ও এনডিটিভি’র
শুক্রবারের সহিংসতায় অন্তত ৩৫ জন নিহত ও আড়াইশ’ লোক আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। হরিয়ানা প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। আজ যাতে সেদিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না-হয়, তার জন্য চরম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ৫০ বছর বয়সী বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংকে বন্দি রাখা হয়েছে রোহটাকের সানোরিয়া জেলে, যেটি রোহটাক শহর থেকে দশ কিলোমিটার দূরে। শহর থেকে যে রাস্তাটি জেল অভিমুখে যাচ্ছে, সেটি আর কারাগার চত্বর ঘিরে রেখেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং হরিয়ানা পুলিশের সদস্যরা।
বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের আশ্রম, ‘ডেরা সাচ্চা সওদা’র ভক্তদের রোহটাক বা তার আশেপাশে কোথাও ঘেঁষতেই দেওয়া হচ্ছে না বলে পুলিশ জানিযেছে। রোহটাকের পুলিশ প্রধান নভদীপ সিং ভির্ক জানান, সোমবার রোহটাককে শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলায় মোট ২৮ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী। তবে লাখ লাখ ডেরা ভক্ত পাঁচকুলায় গিয়ে গত শুক্রবার যেভাবে সহিংস বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, রোহটাকে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেই পুলিশ আশা করছে। ভক্তরা দলে দলে রোহটাক অভিমুখে আসছেন বলেও কোনো খবর নেই। আসলে হরিয়ানাজুড়ে বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের যে প্রায় গোটা তিরিশেক ‘ডেরা’ আছে তার সবগুলোই পুলিশ এর মধ্যে সিল করে দিয়েছে। ডেরার যে প্রধানরা ভক্তদের জুটিয়ে আনার ক্ষমতা রাখেন, আটক করা হয়েছে তাদেরও অনেককেই। রোহটাকের আশেপাশের জেলাগুলোকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে কোনো ডেরা ভক্ত যাতে রোহটাকে ঢুকতে না পারে।
ইতোমধ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট নির্দেশ দিযেছে, সাজা ঘোষণার জন্য বিশেষ সিবিআই বিচারক জগদীপ সিংকে হেলিকপ্টারে রোহটাক জেলে উড়িয়ে আনতে হবে। জেল চত্বরের ভেতরেই বিচারক বন্দি নম্বর ১৯৯৭, বাবা গুরমিত রাম রহিম সিংকে স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় তার সাজা পড়ে শোনাবেন। অর্থাত্ সাজা শোনার জন্য রাম রহিমকে কোর্টে নেওয়া হবে না, কোর্টই তার কাছে আসবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যেই সিবিআই বিচারক জগদীপ সিংকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য হরিয়ানা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ডেরা সচ্চা সওদা’র মূল আশ্রম যেখানে, সেই সিরসাতেও ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছে। এক হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত ওই ডেরার ভেতরে প্রায় ৩০ হাজার ভক্ত আদালত তাদের ‘পিতাজি’র বিরুদ্ধে কী রায় দেয় তা শোনার জন্য দেয়, তা শোনার জন্য অধীর উত্কণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আমাদের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী গতকাল রবিবার ‘মান কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি পেতে হবে। বিশ্বাসের নামে হিংসার ঘটনা অগ্রহণযোগ্য। ভারত মহাত্মা গান্ধী ও বুদ্ধের দেশ। এখানে কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যারা সহিংসতা চালিয়েছে যারা যে দলের কিংবা যে বিশ্বাসের হোক না কেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না।
ইত্তেফাক/নূহু
