বগুড়ায় যমুনার পানি কমলেও বাঙ্গালি নদীর পানি বেড়ে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, শাজাহানপুর, ধুনট ও শেরপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলি জমি বাঙ্গালি নদীর পানি বেড়ে ডুবে গেছে। এর আগে বন্যায় ফসলি জমির বেশি ক্ষতি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, 'বাঙ্গালি নদীর পানি বেড়ে বগুড়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। শীতকালীন সবজি ও রোপা আমন ডুবে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।'
বাঙ্গালি নদীতে এখন বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন। তিনি বলেন, এ নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় বিভিন্ন খাল-নালা দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। অনেকেই ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অন্যত্র চলে গেছে।
সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রোপা আমন ছাড়াও বেগুন, পটলসহ নানা ধরনের সবজিক্ষেতে পানি ওঠায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যমুনার পশ্চিম পাশে বন্যা মোকাবেলার প্রস্তুতি না থাকায় তাদের দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। ধুনটের চিকাশী ইউনিয়নের সাবেদ আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন করেছিলেন। সব ডুবে গেছে। এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
শেরপুরের সালফার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'আমি দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলাম। পানিতে ডুবে যাওয়ায় ওইসব গাছ মরে গেছে।' একই কথা বললেন, সারিয়াকান্দির ভেলাবাড়ীর একরাম, আশরাফসহ অনেকে।
জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, 'বাঙ্গালির পানি বেড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি উপজেলায়। সেসব এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে দিয়েছি। আমি নিজেও বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে এসেছি।'
ইত্তেফাক/জামান
