যেসব প্রাণিরা মানুষ শিকার করে ভক্ষণ করে তাদের মানুষখেকো বলে। বাঘ, চিতাবাঘ, সিংহ, কুমির ও হাঙর মানুষখেকো হিসেবে বিশেষ পরিচিত। তবে এর বাইরেও মানুষখেকো রয়েছে। তবে সব থেকে অবাক করার বিষয় হল, এসব প্রাণিদের বাইরে মানুষও নরখাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। প্রস্তুর যুগে আদিম মানুষ নরমাংসভোজী থাকা নিয়ে মানুষ অনুমান করলেও তার পেছনে খুব শক্ত কোন প্রমাণ দাঁড় করাতে পারেননি কেউ। অথচ এই একুশ শতকে এসেই কিনা দেখা মিলল নরখাদকের। দক্ষিণ আফ্রিকার কাওয়া জুলু নাটাল প্রদেশের শ্যামইয়া গ্রামে গত জুলাই মাসে নরখাদকের খোঁজ পাওয়া গেল। ঐ সময়ে জানিলি নামের এক গ্রামবাসী নিখোঁজ হয়। তার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাচ্ছিল না। এর মধ্যেই এক ব্যক্তি স্থানীয় থানায় গিয়ে নিজেকে নরখাদক দাবি করে বসেন।
ঐ ব্যক্তি পুলিশের কাছে এসে জানান তিনি মানুষের মাংস খেতে খেতে ক্লান্ত। কিন্তু ঐ ব্যক্তির কথা পুলিশ প্রথমে আমলে নিচ্ছিল না। একবিংশ শতাব্দীতেও নরখাদক থাকতে পারে এটি তাদের ধারণাই ছিল না। এরপর ঐ লোক প্রমাণ হিসেবে মানুষের একটি রক্তাক্ত হাত ও পা দেখায়। তারপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর কিছু দিন পরই জানিলির বিকৃত মরদেহের সন্ধান পায় তার পরিবার। ঐ ব্যক্তি ছাড়াও আরো চারজনকে নরখাদক সন্দেহের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। জানিলির মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া এবং নরখাদক ইস্যুটি সামনে চলে আসার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছে গ্রামবাসী। একটি বাড়ি ভাড়া করে সেখানে থেকে মানুষের মাংস খেত ঐ নরখাদক। এই কথা জানার পর বাড়ির মালিক তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। নরখাদকের বিষয়টি অনেকের কাছেই রূপকথার গল্পের মতো মনে হচ্ছে। বাস্তবে নরখাদকের অস্তিত্ব থাকতে পারে - এমন কথা ভাবতেই পারছেন না স্থানীয়রা।
ইত্তেফাক/নূহু
