জামালপুরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফা বন্যায় জামালপুরের সাতটি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌর এলাকা বন্যা কবলিত হয়। বন্যার প্রবল স্রোতে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলার অসংখ্য রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার সাড়ে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪২ জন মানুষ। ৫০হাজার ১২৭ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বন্যাজনিত কারণে শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ ১৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) দুই হাজার ১৫৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ৫৯৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৮০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫টি সেতু-কালভার্ট ভেঙে গেছে এবং ৬৯টি হাট-বাজার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই শতাধিক বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। এক হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় এ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। দুই দফা বন্যায় প্রায় সব সড়ক ভেঙে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ, বিশেষ করে রিকশা, ইজিবাইক, পিকআপ, ভটভটি ও নছিমন চালকরা বেকার হয়ে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাঘাট মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা না গেলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে এলাকাবাসিকে। আসন্ন ঈদুল আযহায় মানুষের বাড়িতে যাতায়াত করা এবার খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খান বলেন, এ ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তার মধ্যে চার কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও ছয় কিলোমিটার আংশিক এবং ৩৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার ১১ কিলোমিটার সম্পূর্ণ ও বাকি রাস্তার আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলার আলিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী শহিদুর রহমান জানান, আলিরপাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গাজী আহাদুজ্জামান সড়কের চার কিলোমিটার ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, এখনো অনেক স্থানে রাস্তার ওপর থেকে বন্যার পানি নেমে যায়নি। এ কারণে পুরোদমে মেরামত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি সরে গেছে এমন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে।
জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে। তিনি আরোও বলেন দিন ভালো থাকলে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয় তার যথযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামপুরের আমতলী বাজার থেকে উলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তায় অসংখ্য খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামপুরের-গুঠাইল বাজার এবং গুঠাইল-মলমগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, পচাবহলা বাজার থেকে উলিয়া বাজার প্রায় সাত কিলোমিটার পাকা রাস্তা, উলিয়া বাজার থেকে মাহমুদপুর বাজার প্রায় ছয় কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ধর্মকুড়া বাজার থেকে জারুলতলা বাজার হয়ে কুলকান্দি বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা প্রায় পুরোটা খানা-খন্দে ভরা। এছাড়া ইসলামপুর-পাথর্শী-মোজাআটা-শ্বশারিয়াবাড়ী এলাকার রাস্তাঘাটে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
