নেত্রকোনার হাওরে ভাঙছে বাড়িঘর

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৭, ০০:৫৩

হাওর জেলা হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনা। জেলার মদন, মোহনগঞ্জ খালিয়াজুরি আটপাড়া এবং কলমাকান্দা উপজেলার হাওরের অংশ। বর্ষার সময় হাওরের যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। কিন্তু শুকনার সময় হাওরবাসীর চলাচলে দারুণ কষ্ট। হাওরগুলো এখন পানিতে টই-টম্ব্বুর। চলছে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ট্রলার বা ছোট-বড় নৌকা। তবে সবই ইঞ্জিনচালিত। ট্রলারের কোনো হিসাব নেই সরকারের খাতায়। নেই কোনো রাজস্ব আদায়।

নেত্রকোনার মদন উচিত্পুর থেকে খালিয়াজুিরর জগন্নাথপুর, রসুলপুর, কৃষ্ণপুর, গাজিপুর এবং খালিয়াজুরিতে এখন যাতায়াতের একমাত্র বাহন এই ট্রলার। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদর  এবং বারহাট্টা সদর থেকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয় এই ট্রলারে।  নেত্রকোনা থেকে সুনামগঞ্জ জেলাতেও যেতে হলে লঞ্চ বা ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই দুর্ঘটনায় পড়ছে বেশি। কারণ এগুলো প্রয়োজনে পিছাতে পারে না। নৌকা থামাতে হলেও নৌকা অনেকটা এগিয়ে যায়। তখন অন্য ট্রলারের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটে দুর্ঘটনা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় লেখা হলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। তাই ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

হাওরবাসী কয়েকজন এ প্রতিনিধিকে জানান, যদি ঝড় বা মেঘলা দিন থাকে তখন এ সমস্ত যানবাহন চলাচল অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। তখন তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। সেদিন আর গন্তেব্যে যাওয়া যায় না। কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে  অনবরত ট্রলার চলাচলের কারণে হাওর উপজেলাগুলো গ্রামগুলোর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর। এমনকি বেশকিছু গ্রামও এখন হুমকির মুখে।

নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বাড়িঘর রক্ষার জন্য অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ নেওয়া  হয়নি।

ইত্তেফাক/নূহু