ঈদ আসছে। অথচ ঠাকুরগাঁও জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ নিন্মবিত্ত মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ নেই।
ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সাথে কথা বললে হতাশা ব্যক্ত করেন তারা।
'কুরবানির ঈদ আসি গেইছে, কিন্তু বাড়ি ঠিক করমো না খরচাপাতি করমো? হামার বড় কষ্ট, হামার বাড়িত টাকা-পয়সা কিচ্ছু নাই। গরিব মানুষ হামরা, কেংকরি এইলা ঠিক করমো। কুরবানি ঈদের জইন্যে হামার খুব কষ্ট হই গেইছে। এলা কুরবানি করমো না বাড়ি ঠিক করমো?'
কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের খালপাড়া এলাকায় সামশুলের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।
এবারের হঠাৎ প্রবল বন্যায় তার বাড়িঘর ভেঙে গেছে, পানির স্রোতে ভেসে গেছে ধান, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কোনোরকমে খুঁটি দিয়ে টিন লাগিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁই করেছেন বাড়ির ভাঙা স্তূপের ওপর। বন্যার সময়ে তিনি ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এসে দেখেন কিছুই নেই।
সামশুল প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সেই আয়-রোজগার দিয়ে চালাতে হয় তার চার সদস্যের সংসার।
সামশুল বলেন, 'বন্যার জইন্যে সবকিছু ভাসি গেইছে। পরিবার নিয়া এখন কুনোমতে দিন পার করছি। কী খামো সেইটাই এখন বড় সমস্যা। কুনোভাবেই ঈদ এইবার হবে না।'
শুধু সামশুল ও ইয়াসমিন নয়, এ ভয়াবহ বন্যায় সহায়-সম্বল হারিয়েছেন অনেকেই। বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সবাই এখন ছুটছেন ত্রাণ হিসেবে খাদ্য কিংবা বাড়িঘর মেরামতের জন্য টিন ও যাবতীয় সামগ্রী পেতে। তাদের মাঝে ঈদের কোনো আমেজ নেই।
মনসুরা বেগম। স্বামী রফিক ঢাকায় গাড়ি চালান। দুই সন্তান নিয়ে পরের আশ্রয়ে আছেন। তিনি জানান, ঘরে জমানো যা ছিল তার সবই বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে। স্বামী ঢাকা থেকে কিছু কিছু টাকা পাঠাচ্ছেন, তাই দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। টাকা বেশি হলে বাড়ির কাজে হাত দেবেন। তাই এবার ঈদ করা হবে না তার।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের আশ্রয় ব্যবস্থা ও অন্যান্য মানুষের খাদ্য ও নগদ অর্থ সরবরাহ করেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, বন্যার্ত মানুষের জন্য পূর্নবাসনের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া যেসকল ত্রান মজুদ ছিল তা বণ্টন প্রায় শেষের দিকে। পূর্ণবাসনের অর্থ পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সে সঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
