উত্তেজনা সৃষ্টি করে পালানোর ছক কষেছিলেন রাম রহিম

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৭, ২০:৫৬
২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং ধারণা করেছিলেন, ধর্ষণ মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হতে যাচ্ছেন। আর সেই ধারণা মাথায় রেখে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় পুলিশের দাবি, সমর্থকদের মধ্যে উসকানি তৈরি করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন রাম রহিম।
 
ভারতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক কে কে রাও বলেছেন, উত্তেজনা তৈরি করতে রাম রহিম লাল রংয়ের একটি ব্যাগকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। কে কে রাও এর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ২৫ আগস্ট ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেন পাঁচকুলার আদালত। এর পরপরই রাম রহিমের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রতিবাদে পাঁচকুলা ও সিরসায় তাণ্ডব শুরু করেন। ওই ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে রাম রহিমকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে গ্রেফতার হন কয়েকজন সমর্থক। 
 
শুক্রবার ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার পরে আদালত কক্ষে একটি লাল ব্যাগ চেয়ে পাঠান ডেরা প্রধান। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যাগে তার কাপড়চোপড় আছে। তবে পুলিশ বলছে, ওই লাল ব্যাগই ছিল রাম রহিমের সংকেত। বুধবার কে কে রাও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডেরা প্রধান ব্যাগটি চেয়ে পাঠান, বলেন সেখানে তার কাপড় আছে। এটি প্রকৃতপক্ষে তার সমর্থকদের জন্য সংকেত ছিল। এর মধ্য দিয়ে তিনি যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তা সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল, যেন সমর্থকরা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন। গাড়ি থেকে যখন ব্যাগটি নামানো হল তখনই ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকে টিয়ার গ্যাস শেলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। তখনই আমরা বুঝে গেলাম, এ সংকেতের পেছনে কোনও অর্থ আছে।’
 
প্রায় একই সময়ে ডেরার বাছাই করা মাস্তানদের মোবাইলে এসএমএসে পৌঁছায় একটি সাংকেতিক বার্তা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সম্ভবত সিরসায় ডেরার সদর দফতর থেকেই পাঠানো হয়েছিল সেই এসএমএস। ‘লাল ব্যাগ’ ছিল সরাসরি গুরমিতের সংকেত। আর সেই সংকেতের আড়ালেই তৈরি ছিল তার পালানোর ছক। এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির