ডোকলাম সীমান্তে আপাতত ভারত-চীন মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটেছে। তবে দু’দেশের সম্পর্কে অদূর ভবিষ্যতে যে আবার সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মনে করছে, চীনা বাহিনীকে মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাদের শক্তিশালী উপস্থিতির কারণেই চীন খুব বেশি আগ্রাসী ভূমিকা নিতে পারেনি। আর এর ফলেই তারা সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। খবর এনডিটিভির।
দীর্ঘদিন পর ডোকলাম সীমান্তে চীনের সড়ক নির্মাণ নিয়ে দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সীমান্তের ওই অংশটি ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভুটান নিজের বলে দাবি করে। কিন্তু অঞ্চলটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। এলাকাটির মালিকানা দাবি করে আসছে চীন ও ভুটান উভয় দেশই। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। ভারত মনে করে, চীন যদি এ রাস্তাটি তৈরি করে তাহলে কৌশলগতভাবে তারা পিছিয়ে পড়বে। এ রাস্তাটির মাধ্যমে চীন এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাবে, যেটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
ভুটানের দাবির পক্ষে চীনা সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় ভারত। গত ১৬ জুন থেকে ডোকলাম সীমান্তে মুখোমুখি ছিল দুই দেশের সেনাবাহিনী। অন্তত ৩০০ সেনাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল বিরোধপূর্ণ ওই সীমান্তে। বারবার যুদ্ধের হুমকিও দিতে শুরু করেছিল চীন। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সরে আসে দুই দেশের সেনারা ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, তারা হার মানতে রাজি ছিল না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ হাজার ফিট উপরে ডোকলামে কৌশলগত দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল ভারতীয় সেনারা। সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিকিমে চীনের চেয়ে ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ও তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর সুযোগ ছিল। এর ফলেই কূটনৈতিক সমাধানে যেতে বাধ্য হয়েছে চীন।
ইত্তেফাক/সাব্বির
