এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি অর্ধকোটি টাকা প্রদানের দাবিতে খুলনার খালিশপুর জুট মিলে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শ্রমিকরা উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে শ্রমিকদের কর্মসূচি চলাকালে খালিশপুর জুট মিলের উপ-ব্যবস্থাপক তৌছিব হাসান এক মহিলা শ্রমিককে পিটিয়া আহত করেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওই কর্মকর্তাকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মিল এলাকায় চরম শ্রমিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, গত ৩ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়ায় শ্রমিকরা গত ২৮ আগস্ট দুপুর আড়াই মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরে মিল কর্তৃপক্ষ ২৯ আগস্ট ২ সপ্তাহের ও বৃহস্পতিবার আরো এক সপ্তাহের মজুরি প্রদানের আশ্বাস দেয়। এরপর ২৯ আগস্ট সকাল ৭টায় শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করে। ওই দিন বিকেলে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ২ সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ করেন। মিল কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাকি এক সপ্তাহর মজুরি পাওনায় অপেক্ষায় থাকে শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রমিকরা জানতে পারে তাদের মজুরি প্রদান করা হবে না। এ খবর ১, ২, ও ৩ নম্বর ইউনিটের শ্রমিকদের কাছে ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দুপুর পৌনে ১২টায় মিলের ১ নম্বর ইউনিটের, দুপুর ১২ টায় ২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের শ্রমিকরা স্ব স্ব কর্মস্থল ত্যাগ করে মিলের উৎপাদন বন্ধ রাখে।
এ সময় শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। শ্রমিকদের এই কর্মসূচি চলাকালে ২নম্বর ইউনিটের ইনচার্জ ও উপ-ব্যবস্থাপক তৌছিব হাসান মোবাইল ফোনে শ্রমিকদের ছবি তোলেন। এতে শ্রমিকদের সাথে ওই কর্মকর্তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ১ নম্বর ইউনিটের তাঁত বিভাগের রত্না নামের এক মহিলা শ্রমিকের সাথে কর্মকর্তা তৌছিবের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তা ওই মহিলা শ্রমিকের মুখে চড় মারেন। এতে রত্না মিল কর্মকর্তার উপর উত্তেজিত হয়ে পড়লে তৌছিব লৌহার রড দিয়ে মহিলা শ্রমিকের শরীরে আঘাত করেন। রত্না মিলের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লে শ্রমিকরা তাকে প্রথমে মিল হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মিলের কর্মকর্তার হামলায় মহিলা শ্রমিক আহতের ঘটনা শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ২ ও ৩ নম্বর ইউনিটের মাঝের সড়কে অবস্থান করে। শ্রমিকরা কর্মকর্তা তৌছিব হাসানকে মিলের মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মিলে উৎপাদন বন্ধ ছিলো।
মিল শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েও মিল কর্তৃপক্ষ পাওনা মজুরি পরিশোধ করেনি। আমরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করতে গেলে কর্মকর্তারা আমাদের মহিলা শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করেছে। শ্রমিকের উপর হামলাকারী উপ-ব্যবস্থাপক তৌছিব হাসানকে এই মিল থেকে অপসারণ করতে হবে। শ্রমিকরা আরো জানান, বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবে না।
এ ঘটনায় মিলের হিসাব বিভাগীয় প্রধান সুলতান মাহমুদ জানান, বকেয়া এক সপ্তাহর মজুরির কারণে শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কর্মকর্তা এক মহিলা শ্রমিকের উপর হামলা করেছে এ কথা শুনেছি। তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। মজুরি প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, মজুরি পরিশোধ করার এখন আর কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মিলের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প প্রধান গোলাম আজম মোহা. মাহবুবউর রশীদ জুলফিকারের মোবাইলফোনে কয়ের বার রিং দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/জামান
