রাখাইনে সহিংসতায় বাদ যায়নি হিন্দুরাও

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:২১
 
মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতায় নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি এবার হিন্দুরাও। চলমান সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮৬ জন। যাদের অধিকাংশই রাখাইনের মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাতেই প্রাণ ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ৪১২ হিন্দু নারী-পুরুষ শিশু উখিয়ার কুতুপালং এলাকার পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার ওই হিন্দু পাড়া সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ৪১২ জনের হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশু একটি মুরগির খামারে মানবেতর দিনযাপন করছেন। তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে স্থানীয় কিছু হিন্দু পরিবার। সহায় সম্বলহীন এ হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্যের প্রয়োজন।
 
কুতুপালং ৩ নম্বর হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম হিন্দু পাড়ার মেম্বার স্বপন শর্মা রনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ১৬ জন হিন্দু মিয়ানমার থেকে আমাদের গ্রামে এক আত্মীয়ের পরিবারে আশ্রয় নেয়।পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অর্ধাহারে-অনাহারে অবস্থান করা ৪১২ জন হিন্দুকে আমাদের গ্রামের একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে আশ্রয় দিই। তাদের বুধবার রাত থেকেই আহারের ব্যবস্থা করি। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক তাদের আহারের ব্যবস্থা করে। পরে উখিয়া ইউএনও এবং ওসি পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু সহায় সম্বলহীন এ হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্যের প্রয়োজন।
 
আশ্রয় নেয়া হিন্দুরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রাখাইনের মংডুর চিকনছড়ি, ফকিরাবাজার সহ কয়েকটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে মুখোশধারী কিছু সশস্ত্র লোক তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের পুরো পাড়া ঘিরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে অনেককে গুলি করে হত্যা করছে। শিশু ও মহিলাদেরকেও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেকে পরিবার আতঙ্কে পাহাড়, ধান ক্ষেতে ও বনজঙ্গলে পালিয়ে লুকিয়ে আছে। কিছু হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাধা ও ভয়ের কারণে কেউ ঢুকতে পারছেনা। ক্ষুধার জ্বালায় তারা রাতের আধারে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান।
 
এ ব্যাপারে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়োতষ শর্মা চন্দন মিয়ানমারের সহিংসতায় ৮৬ জন হিন্দু নিহত হওয়ায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাখাইনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর হস্তক্ষেপ করতে হবে। আর রাখাইনে নিরীহ হিন্দুদের উপর হত্যা-নির্যাতন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তিনি কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা করার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানান।
 
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের হিন্দু পরিবারদেরকে নিরাপত্তা সহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান