ঈদ উত্সবে অংশ নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণের মানুষ। তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চ, বাস ও স্টিমারে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেই বিআইডব্লিউটিসির দুইটি স্টিমারসহ ২৪টি নৌযান ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বরিশাল নৌ-বন্দরে পৌঁছায়। নৌ-বন্দরে নেমেই যানবাহন পেতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়েছে যাত্রীদের। বাড়তি চাপের সুযোগে লঞ্চেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে লঞ্চে ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬শ টাকা হলেও এখন ২২শ টাকা ও সিঙ্গেল কেবিন ৮শ টাকার স্থলে ১২শ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ডেকে সাধারণ ভাড়া ২০০ হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫শ যাত্রী হলেও গত রাতে ৭ সহস্রাধিকের বেশি যাত্রী নিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চগুলো টার্মিনালে নোঙর করে। ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী বোঝাই এসব লঞ্চে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিলো সীমাহীন। বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, বুধবার রাতেই ২৪টি নৌ-যান যাত্রী নিয়ে নৌ-বন্দরে পৌঁছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে আরো নৌযান যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, তারা সবসময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক কম টাকায় যাত্রী পরিবহন করে থাকেন। কেবল ঈদ-কোরবানি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাদের বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে যাত্রীরা বরিশালে নামার পরই পড়েন বাড়তি ঝামেলায়। নগরীর রিকশা-অটোরিকশা, আলফা-মাহিন্দ্রা কিংবা মাইক্রোবাসে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ গুণ বেশি। বরিশাল থেকে গড়িয়ারপাড়ে যেতে হলে মাহিন্দ্রাতে জনপ্রতি ২০ টাকার বেশি খরচ হয় না। সেখানে জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ৬০ টাকা। রিজার্ভ গেলে হাঁকা হচ্ছে ৪শ টাকা। এভাবে প্রতিটি যানবাহনের চালকরাই মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে অধিক ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সুন্দরবন লঞ্চের যাত্রী ঢাকা থেকে বরিশালে আসা আনিসুল কিবরিয়া জানান, স্ত্রী নিয়ে ঈদ করতে বরিশালে এসেছেন। ভোররাতেই অনেকটা বাধ্য হয়ে লঞ্চ থেকে নেমেছেন। নগরীর কাউনিয়া এলাকায় যেতে ৫০ টাকার ভাড়া এখন সাড়ে ৪শ টাকা হয়ে গেছে। অপর এক লঞ্চের যাত্রী সিহাব জানান, ঘরমুখো মানুষ নিজ শহরে এসে বাড়তি ভাড়ার বিড়ম্বনায় পড়ছেন। নেই কারো নজরদারি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে একাধিক অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা চালক জানান, ট্রাফিক পুলিশ ও নৌ-থানা পুলিশকে ঈদ বকশিশ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে হয়। তাই ইচ্ছা থাকলেও তারা ভাড়া কম নিতে পারেন না।
অন্যদিকে গতকাল নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়। পথে পথে এসব যাত্রীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, লক্কড়-ঝক্কড় ফেরির কারণে লেবুখালী ফেরি, লাহার হাট ফেরিসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
