প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সভাপতি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:১৯
 
নীলফামারীর জলঢাকায় এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পেটালেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজী সোহেলকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দরজা আটকিয়ে মারপিট করেন। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি নেতা খুরশিদ আলম আলো। 
 
আজ সোমবার প্রধান শিক্ষক বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর ঈদের জন্য স্কুল বন্ধ ছিল। আমি বন্ধের দিনও অফিসে বসে অফিসের কাজ করছি। বিকাল ৩টার দিকে হঠাৎ আমার মোবাইল ফোনে সভাপতি ওনার মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে আমাকে বলেন, আপনি কোথায়? উত্তরে আমি সভাপতিকে বললাম, আমি স্কুলে অফিসেই আছি ভাই। তার ১০মিনিট পরেই সভাপতি আমার অফিসে আসেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন। আমি দরজা বন্ধের বিষয় জানতে চাইলে, কোনো উত্তর না দিয়ে আমাকে মারামারি শুরু করেন। এতে আমি আহত হয়ে যাই। পরে এলাকার মানুষ আমাক ওখান থেকে উদ্ধার করে। বোরাগাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে বিষয়টি আমি এখনও জানতে পারলাম না তিনি আমাকে কেন মারলেন? এ ব্যাপারে আমার কর্তৃপক্ষকে ও শিক্ষক সমিতিকে জানিয়েছি। স্কুল খুললেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
 
ওই স্কুলের শিক্ষক ও এলাকার অনেকেই জানান, যে ওই বিদ্যালয়ে একজন পিয়ন নিয়োগ দেওয়া হবে, তারেই জেরধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। 
 
ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি এটা দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষক কোনো বিষয়ে দোষী হলে তাকে মিটিংয়ের মাধ্যমে তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু কারো গায়ে হাত উঠানো ঠিক না। 
 
বিদ্যালয়ের সভাপতি খুরশিদ আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলে জানান। 
 
জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, আমি এখনো অভিযোগ পাইনি।অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
উপজেলা নির্বাহী অফসার মুহা. রাশেদুল হক প্রধান জনান, বিষয়টি আমি জেনেছি, তাদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে