বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণ পিপাসু ভারতগামী যাত্রীদের ঢল

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৮
 
ঈদের ছুটি শুরুতেই ভ্রমণ পিপাসু ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদের ঢল নেমেছে এখন বেনাপোল চেকপোস্টে।যাত্রীদের সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে দুই দেশের চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টম কর্মকর্তারা। যেন ভোগান্তির শেষ নেই। এসব যাত্রীদের তবে রোগী ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন সঙ্গিরা।
 
ঈদের ছুটি শুরু থেকেই প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী। ভারত থেকে আসছেও অনুরুপভাবে তবে আসার সংখ্যাটা তুলনামুলকভাবে একটু কম। ঈদের দিন শনিবার এ পথে ভারতে গেছে চার হাজার ৫শ‘ ৩ জন এবং ভারত থেকে আসছে ৮ শত ৩৮ জন যাত্রী। রবিবার এ পথে ভারতে গেছে ৬ হাজার ১ শত ৬২ জন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ২ হাজার ১ শত ৮৬জন। সোমবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ভারতে গেছে ৬ হাজার ৫শত জন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমবার ভারত থেকে আসা যাত্রীদের সংখ্যা জানাতে পারিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। 
 
তারা জানান, ভারত থেকে আসা যাত্রীদের সংখ্যা জানানো যাবে- রাত সাড়ে ৮ টার পরে। তবে ৩ দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পথে ভারত বাংলাদেশ যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ২০ হাজার ১শত ৮৯ জন। এ সব যাত্রীদের কাছ থেকে শনিবার থেকে সোমবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত ৩ দিনে সোনালী ব্যাংক চেকপোস্ট ব্যুথ ভ্রমনকর আদায় করেছে ১ কোটি ৩৫ হাজার টাকা। 
 
যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা এ পথে বাড়ছে প্রতিদিন। এ সব যাত্রীদের কেউ চিকিৎসা, কেউ বেড়াতে কেউ বা যাচ্ছে নাড়ির টানে আত্বীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব যাত্রীরা ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে ঢুকতেই নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে চেকিংয়ের নামে লাইনে দাঁড় করিয়ে পাসপোর্ট ও ব্যাগ সিরিয়ালে দেখছে দীর্ঘক্ষণ ধরে। 
 
IMG0
 
দীর্ঘ লাইনের এসব যাত্রীদের পাসপোর্টের ঠিকানা, ভিসার মেয়াদ, ভারতে কোথায় অবস্থান করবেন এসব নানা প্রশ্ন করে হয়রানী করছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। ভারতে প্রবেশের একটি মাত্র পকেট গেটে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে চেকিংয়ের নামে নানা ভাবে হয়রানি করছেন।হয়রানীর শিকার যাত্রীরা কেউ কেউ শিশু ও রোগীদের নিয়ে ভারতে না যেয়ে ফিরে আসছেন নিজ ঠিকানায়।
 
বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এআরএম রকিবুল হাসান জানান, শনিবার থেকে সোমবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত ভারত ভ্রমন পিপাসু ২০ হাজার ৭০জন যাত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৩৫ হাজার টাকা ভ্রমণ কর আদায় করা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ এসআই মো. ফজলুর হক জানান, ঈদের ছুটি শুরু থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ধীর গতির কারণে সকালে আসা যাত্রীরা দুপুরে ভারতে প্রবেশ করছে। ভারতীয় ইমিগ্রিশেন কর্তৃপক্ষ তাদের জনবল বাড়িয়ে দ্রুত কাজ করলে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হতো। 
 
ইত্তেফাক/কেকে