মিসরের নতুন আবিষ্কৃত তিন সমাধির রহস্যের সন্ধানে....

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:১৮

বিশ্ব ইতিহাসের এক অনবদ্য অধ্যায় জুড়ে রয়েছে মিসরের পিরামিড ও মমি। মূলত তত্কালীন ফারাওদের সমাধি সৌধ হিসেবেই পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। ফারাওদের মৃতদেহগুলো মাটি চাপা না দিয়ে তখন মমি তৈরি করে পিরামিড বা সমাধি সৌধ তৈরি করা হতো। মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল মৃত্যুর পরও জীবনের অস্তিত্ব থাকে। আর সেজন্যই তারা মৃতদেহকে স্বাভাবিক নিয়মে কবরস্থ না করে পিরামিড করে রাখতো। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা মিসরের নানা জায়গা থেকে আবিষ্কার করছেন এসব সমাধি ক্ষেত্র। আর এর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে আধুনিক যুগে জানতে পারছে মানুষ। মিসরের পুরাতাত্ত্বিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবার দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার বছর আগের তিনটি সমাধি ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে ১২৫ মাইল দক্ষিণে সামালুত শহরের কাছের এল-কামিন এল-সাহরাই অঞ্চলে পাওয়া গেছে সমাধি ক্ষেত্র তিনটি। প্রতিটি সমাধি ক্ষেত্রেই রয়েছে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের একাধিক শবাধার। কাঁদামাটির তৈরি নানা ধরনের তৈজসপত্রেরও সন্ধান মিলেছে সেখানে। খ্রীষ্টপূর্ব ৫২৫ সালে ২৬ ডায়নাস্টির শেষ ফারাওয়ের সামতিক-৩ এর পতনের মধ্য দিয়ে মিসরে পারস্যের শাসনের সূত্রপাত হয়। কাঁদা মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্রই প্রমাণ করে এই সমাধিগুলো ঐ সময়ে তৈরি হয়েছিল। মিসর পারস্য সম্রাজ্যের অংশ হওয়ার পর সেখানে এই ধরনের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে থাকে।

মিসরের পুরাতাত্ত্বিক মন্ত্রণালয়ের প্রধান আয়মান আশমায়ে বলেন, এই নিদর্শনগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রাচীন মিসরের ঐ অঞ্চলটি বড় একটি সমাধি হয়ে উঠেছিল। এর আগে ২৭ ডায়নাস্টিতে তৈরি ২০টি সমাধির সাথেও নতুন তিনটি সমাধির বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। তিনটি সমাধির দুইটির মধ্যে কবরস্থান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১৫টির মতো কবরের গর্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কবরগুলোর মধ্যে শিশুদের কবরও রয়েছে। এটি সত্যি প্রমাণিত হলে সমাধিতে কোন শিশুর কবর পাওয়ার ক্ষেত্রে এটিই হবে প্রথম ঘটনা। এছাড়া সেখানে পাওয়া হাড়গোড় দেখেও ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ-শিশুকে সমাহিত করা হয়েছে। তবে এল-কামিন এল-সাহরাইয়ের তৃতীয় সমাধিটির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাতে পারেনি প্রত্নতত্ত্ববিদরা।-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

ইত্তেফাক/নূহু