আশ্রয়হীন-অসহায় পরিবারের জন্য নির্মিত রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের জাহাজমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ পাকা বসতঘর স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা পাকা ভবনে পালন করছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি। জায়গা দখল করে ইচ্ছেমত কাজে ব্যবহার করছে। মাছ চাষ করছে পুকুর দখল করে। আশ্রয়ণের গুটি কয়েক দুস্থ পবিবারকে থাকতে হচ্ছে তাদের আশ্রয়ে। এ অবস্থায় সেখানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে জেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দ্বীপ চর জাহাজমারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়। সেখানে দুস্থ-অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য নির্মাণ করা হয় ৩০টি ব্যারাকে ১৫০টি পাকা ঘর। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই আশ্রণের অধিকাংশ ঘর দখল করে নেয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন জোতদার প্রভাবশালী লোক। তারা পাকা ঘরগুলোতে গরু-ছাগল, মোষ, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। আশ্রয়ণের মধ্যের একটি পুকুরও দখল করে মাছ চাষ করছে তারা। কেবলমাত্র ১০/১২টি ঘরে দুস্থ-অসহায় পরিবারের লোকজন বসবাস করছে তাদের আশ্রিত হয়ে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রভাবশালীদের দাপটের কারণে নতুন করে দুস্থ-অসহায় কোনো পরিবার ঐ আশ্রয়ণে এসে বসবাস করতে সাহস পাচ্ছে না। কারণ কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি-ধামকি ও হামলা-মামলার শিকার হতে হয়। বর্তমান অবস্থায় ঘরগুলো দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জাহাজমারা ইউনিয়নের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সেখানকার অসহায় গরিব মানুষের আশ্রয়ের জন্য এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ সেগুলোর অধিকাংশ দখল করে আছে কতিপয় জোতদার প্রভাবশালী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা হয়েছে। আশ্রয়ণ থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সেখানকার ঘর বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
