‘স্যার আমাকে বাঁচান’

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৪৭

দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে আসা হলে তার কণ্ঠে এই আকুতি শুনা যায়।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, নুসরাতকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন আমি তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। তাকে জিজ্ঞেস করি কেমন আছ? তখন, নুসরাত বলে, ‘স্যার আমাকে বাঁচান, আমি বাঁচতে চাই।’

ফেনীর সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তাকে ঢামেকের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করতে যান তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নুসরাতের বিষয়ে খোঁজ নেন। তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, নুসরাতের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তার শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, চার দুর্বৃত্ত বোরকা পরে এসে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বোরকা পরা চারজনের মধ্যে একজনের নারীকণ্ঠ ছিল। ঘটনার পর তার বোন এসব কথা তাদের বলে গেছে।

আরো পড়ুন: ঊর্মিলার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় বিজেপি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত জাহান আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যায়। পরে সে প্রকৃতির ডাকে বাথরুমে যায়। সেখানে থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার অনুগত কয়েক দুর্বৃত্ত তাকে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার আত্মচিৎকারে শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে।

সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ইতিপূর্বে ওই ছাত্রীর মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় অভিযোগ করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা সবসময় তার মেয়ে নুসরাত জাহানকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। এ অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ