হাতিয়ায় এমপির বাসভবনে গুলি, সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:৩১
 
নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আয়েশা ফেরদাউসের বাসভবনে এলোপাতাড়ি গুলির জের ধরে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ৩০জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এমপির পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর দুইটার দিকে এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৩০ আগস্ট সন্ত্রাসী হামলায় সোনাদিয়া ইউনিয়নের সেকু মার্কেটে যুবলীগ নামধারী রিয়াজ উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় হাতিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীসহ ১৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে বুধবার এমপি আয়েশা ফেরদাউসের উপজেলা সদরের বাসভবনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে আয়েশা ফেরদাউস বক্তব্য দেওয়ার সময় ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে সভাস্থল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় এমপি অল্পের জন্য রক্ষা পান। পরে এমপির সভাস্থল থেকে দলীয় কর্মীরা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মাহমুদ আলী রাতুলের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় ক্ষিপ্ত দলীয় কর্মীরা সেখানে গিয়ে হামলা-ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় এমপি আয়েশা ফেরদাউসের ১২ জন কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
এএসপি (হাতিয়া সার্কেল) গোলাম ফারুক জানান, এমপির বাড়িতে প্রতিবাদ সভায় হামলার জের ধরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয়পক্ষে কিছু লোকজন আহত হয়েছে। ইটের আঘাতে আহত হন পুলিশের ৫/৬জন সদস্য। এ সময় টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
 
এমপি আয়েশা ফেরদাউস অভিযোগ করেন, সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হওয়ার প্রতিবাদে তারা সভা করছিলেন। সেখানে ১৫ দিন আগে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী রাতুল নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে অতর্কিতে তার বাড়িতে সভাস্থলের দিকে গুলি ছোঁড়তে থাকে। এতে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। হামলায় তার কমপক্ষে ২৫ জন কর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন।