খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এরমধ্যে নগরীর খালিশপুর থানার ওসিসহ পুলিশের ৮ সদস্য, তিনজন আনসার সদস্য এবং দুজন সাধারণ ব্যক্তি রয়েছেন।
মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম (ভুক্তভোগী শাহ জালালের মা) বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা যোগসাজসে তার ছেলে মো. শাহ জালালের দুটি চোখ উৎপাটন করে বলে মামলায় উল্লেখ্য করা হয়েছে।
মামলায় মোট ১০জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিচারক শহিদুল ইসলাম আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার দিন ধার্য্য করেছেন।
আসামিরা হলেন- খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই তাপস রায়, এসআই মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম ও এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী এবং আনসার সদস্য (সিপাই) আফসার আলী, আনসার ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন ও আনসার নায়েক রেজাউল এবং অপর দুজন খালিশপুর পুরাতন যশোর রোড এলাকার সুমা আক্তার ও শিরোমনি বাদামতলা এলাকার লুৎফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বাদীর ছেলে মো. শাহ জালাল স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুর বাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে শাহ জালাল তার শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পাশের একটি দোকানে যান। এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে কৌশলে তাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। তার ফিরতে দেরি হওয়ায় খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যান।
পরদিন ১৯ জুলাই ভোরে তারা থানায় গিয়ে জানতে পারেন শাহজালাল নামে কেউ থানায় নেই। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারেন শাহজালাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১০-১১নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় তাকে পড়ে থাকতে এবং দুটি চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান।
শাহজালাল জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গাড়িতে করে গোয়ালখালি হয়ে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে তার দুটি চোখ উপড়ে ফেলে।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, শুনেছি আদালতে একটি মামলা হয়েছে। শাহজালালের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলা থেকে বাঁচতেই পুলিশের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে ’শাহজালালের চোখ গেল কোথায়’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে খুলনাসহ সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ইত্তেফাক/ আর
