মোদী ও সু চি রাখাইনের উন্নয়নে একমত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:২২

মিয়ানমারের রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। মোদীর তিন দিনের মিয়ানমার সফরে তারা রাখাইনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। সফর শেষে মোদী গতকাল দিল্লি ফিরে যান।

একটি সূত্র জানায়, মোদী ও সু চি তাদের আলোচনায় একমত হয়েছেন রাখাইন সমস্যা সমাধানের জন্য সেখানকার অবকাঠামোগত ও সেখানে বসবাসরত বাসিন্দাদের উন্নয়নের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অবকাঠামোগত এবং আর্থসামাজিক বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে রাখাইনের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন। বিশেষ করে সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক উন্নয়ন, উপকারী স্থাপনা তৈরী ছাড়াও রাস্তাঘাট, সেতু, পাওয়ার প্রোজেক্ট, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হস্তশিল্প উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন। মোদী বলেছেন, রাখাইনের অস্থির পরিস্থিতি ভারতকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একারণে দিল্লি চায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটুক এবং শান্তির আবহ ফিরে আসুক। রাখাইন নিয়ে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও তারা স্বীকার করেন।

মোদীর সফরে দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বাড়ানোসহ মোট ১১টি চুক্তি সই করেছেন তারা। মিয়ানমারের নাগরিকদের ভারত সফরের জন্য ভিসা ফি তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব কমিয়ে আনতে মিয়ানমারকে যতটা সম্ভব কাছে পেতে চাইছে ভারত। কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্নে দেশটির গুরুত্ব নয়াদিল্লির কাছে ক্রমশই বাড়ছে।

সবাইকে রক্ষার চেষ্টা করছি: সু চি

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার একটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সু চি বলেছেন তিনি রাখাইনের সব বাসিন্দাদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। সু চি বলেন, আমাদের নাগরিকদের দেখভাল আমাদের করতে হবে। কারণ যারা আমাদের দেশে আছে তাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের, তারা আমাদের নাগরিক হোক বা নাই হোক। নিজেদের কিছু ‘সীমাবদ্ধতা’ আছে মন্তব্য করে সু চি বলেন, তবু আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে সবাই আইনের সুরক্ষা পায়।

ইত্তেফাক/নূহু