অবশেষে ভেঙে পড়ল মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের রাজা সীতারাম রায়ের নির্মিত অষ্টকোণ মন্দিরটি। সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এ পুরাকীর্তিটি সম্প্রতি ধসে পড়ে। পুরাকীর্তি এ মন্দিরটির পুরনো ইটগুলো চুরি যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে মহম্মদপুর উপজেলা সদরের রাজা সীতারাম রায়ের তত্কালীন ভূষণা রাজ্যের রাজধানীতে গড়ে তোলা হয় নানা স্থাপনা। মোগলদের বিরুদ্ধে রাজা সীতারামের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বের ইতিহাস আজও মানুষের মুখে মুখে। সরেজমিনে দেখা যায়, দৃষ্টি-নন্দন সুন্দর স্থাপনা অষ্টকোণ মন্দিরটি ধসে পড়েছে। পুরাতন চারকোনা ইটগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চারদিকে। মহম্মদপুর সদরের বাসিন্দা পংকজ রায় জানান, সংস্কারের অভাবে পুরনো মন্দিরটি ভেঙে পড়েছে। এখন আশঙ্কা মন্দিরের পুরনো বহু দামি ইট চুরির। প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে যে কোনো সময় বহু দামি এ পুরাকীর্তিগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে।
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা ও রাজা সীতারামের বংশীয় পূজারি ব্রাহ্মণ শ্রী কানুতেওয়ারী জানান, মন্দিরটির দালান আট কোণ ছিল। ৫০-৬০ বছর আগে এটি অনেক উঁচু ছিল। ছিল নানা কারুকাজ। সংরক্ষণ আর সংস্কার না হওয়ায় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক শ্রেণির লোকজন মন্দিরের ইট খুলে নেওয়ায় এবং প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মন্দিরটির অবশিষ্ট অংশও বিলীন হয়ে গেল। এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে রাজা সীতারাম রায়ের দ্বিতল ভবন, শয়নালয়, দোলমঞ্চ, তার খননকৃত বাধাই করা দুধ পুকুর, দীঘি। রাজ বাড়িটির জানালা-দরজা সব খুলে নিয়ে গেছে আগেই। প্রভাবশালীরা রাজার জমি দখল করে নিয়েছে। সংস্কারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
মুর্শিদাবাদের নবাব সরকারের একজন আমলা রাজা সীতারাম রায়ের নির্মিত অসংখ্য নান্দনিক কারুকার্য খচিত স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রত্নস্থান যা স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ি নামে পরিচিত। সপ্তদশ-অষ্টদশ শতাব্দীতে এখানে পত্তন হওয়া উন্নত এক জনপদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, মোগল আমলের স্বাধীনচেতা রাজা সীতারামের রাজধানী খ্যাত মহম্মদপুরে অনেক প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ রয়েছে। স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন। এমনকি এটিকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
