উদ্বোধনের ১১ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০২:২১

তিন কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের পর ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের পাশে তিন একর জমির ওপর এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালে। পুরা হাসপাতাল কমপ্লেক্স বিরান পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা।  হাসপাতাল চালুর জন্য স্থানীয়ভাবে আন্দোলনও হয়েছে।

 সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার কর্মচারীদের বাসাসহ পুরা কমপ্লেক্স  এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।  কোনো কিছুই কাজে লাগছে না। সব কিছুই বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এ অঞ্চলের  শিশুদের চিকিত্সার জন্য সরকার একটি প্রকল্পের আওতায় ২৫ বেডের এ শিশু হাসপাতালটি নির্মাণ করে। নির্মাণের পর আসবাবপত্র ও চিকিত্সার যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়। এসব পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালটি চালু দেখিয়ে ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হয়। সে সময় সদর হাসপাতাল থেকে বেড, আসবাবপত্র ও ডাক্তার এনে প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতাল চালু দেখানো হয়। এরপর একে একে  প্রায় ১১ বছর পার হওয়ায়  জঙ্গলে হাসপাতাল কমপ্লেক্স ঢেকে গেছে। আবাসিক ভবনগুলোর অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। একেবারে একটি ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

দুইজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে ডেপুটেশনে দিয়ে নামকাওয়াস্তে আউটডোর চালু করা হলেও কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। তাদের কেউই শিশু বিশেষজ্ঞ নন। দিনে দুই পাঁচজন শিশুকে মায়েরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একজন ডাক্তারকে দেখ-ভাল করার দায়িত্ব দেওয়া আছে। তিনি কালেভদ্রে শিশু হাসপাতালে যান।  হাসপাতালের  কিছু আসবাবপত্র পার্শ্ববর্তী মেডিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস ) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দামি এক্স-রে মেশিন সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার রাশেদা সুলতানা বলেন, ২০১৪ সালে এ হাসপাতাল চালানোর জন্য চারজন ডাক্তার, ১৮ জন নার্স ও ছয়জন স্টাফের পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু কোনো নিয়োগ হয়নি। এজন্য হাসপাতাল চালু করা যাচ্ছে না।  তবে তিনি বলেন, হাসপাতাল চালুর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।  অল্প দিনের মধ্যে চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিভিল সার্জন।  

খুলনা বিভাগের একমাত্র খুলনাতে শিশু হাসপাতাল আছে। ঝিনাইদহ হাসপাতালটি চালু হলে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা ও যশোর জেলার শিশুরা উন্নত চিকিত্সা সেবা পেত।

এদিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে আটটি বেড আছে। তদস্থলে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন শিশু রোগী ভর্তি থাকে।  সামাল দিতে হিমশিম খান ডাক্তার নার্সরা।

ইত্তেফাক/নূহু