ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে ভোগান্তি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:০৪
 
ঈদ আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ। তিন পথেই (সড়ক, ট্রেন ও লঞ্চ) ভোগান্তি পোহায়ে তারা পৌঁছেছেন গন্তব্যে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ নাব্যতার কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ ঘাট গত এক সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। আর এর চাপ পড়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। তবে আশার কথা শুক্রবার বিকাল থেকে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুট স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
 
আইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আজ শনিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ দিকে গতকালও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ছিল ১০ কিলোটিমার যানজট। কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী জানিয়েছেন, দৌলতদিয়ায় তীব্র যানজটের কারণে বেশ কয়েকটি পরিবহনের চালক যশোর - দৌলতদিয়া রুটের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে গাড়ি থামিয়ে বাস ছেড়ে চলে যায়। অন্যদিকে লঞ্চ ও ট্রেনগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
 
 
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও গাড়ির লাইন দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রিজ ছাড়িয়ে যায়। তৈরি হয় দীর্ঘ ১০ কিলোমিটারের বেশি যানজট। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ স্বাভাবিক হলেই দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের দীর্ঘ যানজটের অবসান হবে।
 
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পদ্মায় নাব্যতা সংকট ও প্রবল স্রোতের কারণে গত আটদিন ধরে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘাটের ২০টি ফেরির মধ্যে চলাচল করতো ৬ থেকে ৭টি। কিন্তু গতকাল বিকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ১৩টি ফেরি দিয়ে পারাপারের কাজ শুরু হয়েছে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার তলদেশের পলি অপসারণে ড্রেজিং করে। ফলে গতকাল দুপুরের দিকে চ্যানেলগুলো আবার চলাচলের উপযোগী হয়।
 
বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার গিয়াসউদ্দিন জানিয়েছেন, এ কয়দিন ছোট আকারের ৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপারের কাজ চলতো। গতকাল বিকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বড় ছোট মিলিয়ে ১৩টি ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে কাল ( আজ) শনিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
 
এদিকে বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান বলেন, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের দু’জন ট্রাক চালক তাকে জানিয়েছেন, ১৪ থেকে ১৫ দিন পর গতকাল বিকালে ট্রাক নিয়ে ফেরিতে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন।
 
অন্যদিকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের চিত্রটি ভিন্ন। ঈদ পরবর্তী সময় ফিরতি ট্রেনগুলোই থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু এবারের দেখছি ভিন্ন চিত্র। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেকটি ট্রেনে ছিলনা তিল ধারণের জায়গায়। একই অবস্থায় ফিরতি ট্রেন গুলোর। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) ভিড় ছিল সর্বাধিক। আর ভিড়ের কারণে রংপুর, নীলসাগর ও চিত্রাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর পৌঁছেছে। কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী তুলতে বেশি সময় লাগছে। এ কারণে গন্তব্যে পৌছাতে দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ৩১টি আন্তঃনগরসহ ৬৭টি চলাচল করছে।
 
বরিশাল অফিস থেকে শাহীন হাফিজ জানান, ঈদের ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি কাটিয়ে গতকাল শুক্রবার কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল নেমেছিলো এখানকার লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে। যাত্রী চাপ সামাল দিতে বরিশাল থেকে দেড় ডজনেরও বেশি লঞ্চ গতকাল যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বেসরকারি লঞ্চকোম্পানির সিডিউল অনুযায়ী স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহনের জন্য ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো দুপুরের মধ্যে বরিশাল নৌ-বন্দরে ফিরে আসে।
 
নৌপথে যখন কর্মস্থলগামী মানুষের উপচেপড়া ভিড় ও নৌযানগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিলাস বহুল লঞ্চের সৌখিন যাত্রীদের সিংহভাগই আকাশ পথে পাড়ি জমিয়েছেন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। সরকারি-বেসরকারি দু’টি বিমান কোম্পানি ফ্লাইট ও ভাড়া বৃদ্ধি করেও যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি বিমানের দু’টি ফ্লাইটেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় কর্মস্থলগামীরা যেতে বাধ্য হয়েছেন। আগামীকাল রবিবার বেসরকারি ইউএস বাংলা ও সরকারি বিমান বাংলাদেশ’র ফ্লাইটের টিকিট আগেভাগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
 
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকায় শনিবারও স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা। তিনি জানান ঈদ পরবর্তী দিনগুলোর মতই সম সংখ্যক লঞ্চ বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে যাত্রী পরিবহন করবে।
 
ইত্তেফাক/এমআর