মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরগোয়ালপাড়া ও খালগোয়ালপাড়ায় শনিবার সকালে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত: ১০জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে খালগোয়ালপাড়া গ্রামের মোন্তাজ বিশ্বাসকে (৭০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও চরগোয়ালপাড়া গ্রামের শুকুর মণ্ডলকে (৭০) মাগুরা সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে চরগোয়ালপাড়া বাজারে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নৃত্য চলাকালীন সময়ে খালগোয়ালপাড়া গ্রামের জসিম ও আহাদ নামের দুই যুবক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এরপর গান কমিটির লোকজন তাদের দুইজনকেই জোরপূর্বক অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে জসিম ও আহাদ কমিটির লোকজনদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার বিকেলে খালগোয়ালপাড়া গ্রামের জসিম ও আহাদ চরগোয়ালপাড়া গ্রামের গনি বিশ্বাসের পুত্র সুমন বিশ্বাসকে (২৫) একা পেয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
এ ঘটনার জের ধরে চরগোয়ালপাড়া গ্রামবাসী বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শনিবার ভোর সকালে খালগোয়ালপাড়া গ্রামের মুন্তাজ বিশ্বাসসহ ৪-৫জন গ্রামবাসী চরগোয়ালপাড়া মাঠের ধান ক্ষেতে কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ চরগোয়ালপাড়াবাসী তাদেরকে ঘিরে ফেলে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক কুপিয়ে আহত করে এবং হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় ইউপি সদস্য বুধই বিশ্বাসের দুটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। খালগোয়ালপাড়াবাসী এ সংবাদ শুনামাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সড়কি,রামদা,ছ্যানদা ও লাঠি-সোটা নিয়ে চরগোয়ালপাড়া গ্রামের শুকুর মণ্ডলে বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর লুটপাট করে এবং তার পাটকাঠির গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে চরগোয়ালপাড়া গ্রামের লোকজনও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসংঘর্ষে মোন্তাজ (৭০),শুকুর(৭০),সেলিম (৩৫), হান্নান(৪০), বারিক(৫০), উজ্জল (৩০), বিউটি (৩০) ও ববিতা (৩৫)সহ উভয় গ্রুপের অন্তত: ১০ জন হন।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
