পরিবেশ রক্ষায় সংসদ সদস্যের অনন্য উদ্যোগ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:৫৬
বগুড়ার শেরপুর হাসপাতাল রোডে বাড়ির প্রবেশ পথে শোভা পাচ্ছে সারি সারি দেবদারু, নারিকেল, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। চারিদিকে রয়েছে গোলাপ, বেলী, জুই, চামেলী, পাতাবাহার, মালতী, সাধ্যমনি, বাগানবিলাস, নাইটকুইন, ড্রাগন ও ফণিমনসা। এছাড়া দেশীবট, চায়নাবট, রঙিনবট, ছাতিয়ানী পামগাছ, পাকুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ বনসাই গাছ। টবেও সাজানো আছে ভেষজ, ফুল, ফল ও বনসাইসহ শোভা বর্ধনকারী গাছ।
 
পরিবেশ বান্ধব এই মানুষটি বগুড়া-৫ ( শেরপুর-ধুনট) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে পরপর দু’বারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মাদ হাবিবর রহমান।
 
IMG0
 
বগুড়ার ধুনট উপজেলার জালশুকা গ্রামে রয়েছে প্রায় আড়াইশ বিঘা আয়তনের বাইশা বিল। পাখির আশ্রয়ের জন্য বট, পাকুড়সহ দেশী গাছ লাগানো হয়েছে বিলের পাড়ে। রয়েছে ছায়া সুনিবিড় বাগান। বিলে সারা বছরই বক, শালিক, ময়না, টিয়াসহ নানান জাতের পাখি শিকার করে। এছাড়া শীতকালে সূদুর সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখির মেলা বসে এখানে। সাংসদ এসব পাখি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসা সৃষ্টির জন্যই সাংসদ গ্রামটিতে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
 
বিলের পাড়ে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা নার্সারীতে লক্ষাধিক আম, জাম, পেয়ারা, আমড়াসহ বিভিন্ন জাতের দেশী-বিদেশী ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা রয়েছে। নার্সারীর কোনো চারা বাজারে বিক্রি করা হয় না। সংসদ সদস্যের উদ্যোগে এসব চারা প্রতিবছর রোপন করা হয়। গত ৫ বছরে তিনি প্রায় ৫ লক্ষাধীক চারা লাগিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন সড়কে। 
 
IMG1
 
ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন হাবিবর রহমান । একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এরপর বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মময় জীবন। পুলিশ সুপার ও পরবর্তীতে ঢাকায় ডিএমপির ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে শেষ হয় তার চাকুরিকাল। এরপর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এ সময় তিনি শেরপুর-ধুনটের গণমানুষের সমর্থনের পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেন। ফলশ্রুতিতে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
 
জনপ্রতিনিধি হিসেবে শত ব্যস্ততার মাঝেও গাছ লাগানো আর গাছের পরিচর্যায় মনোনিবেশ সম্পর্কে সদালাপী এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গাছ, পাখি, প্রকৃতি এসবই আমাদের সত্যিকারের বন্ধু। গাছ আমাদের ফল দেয়, ফুলের সুবাস দেয়, ছায়া দেয়, সুশীতল বাতাস দেয়। পরম বিশ্বস্ত মানুষও অনেক সময় আমাদের সাথে প্রতারণা করে, কিন্তু গাছ কখনোই মানুষের কোনো ক্ষতি করেনা। নীরবে মানুষের পাশে থাকে। আমাদের পরিচর্যার মুল্য দেয়।’ 
 
ইত্তেফাক/রেজা