চকরিয়া-পেকুয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে রোহিঙ্গারা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫৮
 
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা সম্প্রতি সময়ে নতুন করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থী। মিয়ানমারে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের কিছু কিছু পরিবার বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।
 
গত চারদিনে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় অন্তত আড়াই হাজার রোহিঙ্গা নানাভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা ইতোপূর্বে অবস্থান নেয়া পুরনো ১০ হাজার রোহিঙ্গার সাথে মিশে গেছে। বর্তমানে ঢুকে পড়া বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ি এলাকায়।
 
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করছেন, দুই উপজেলার লোকালয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বাড়ার সাথে সাথে এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থার কারণে এলাকায় জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
 
এদিকে গত ১১ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলির বিল এলাকা থেকে ২৭জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পুশব্যাক করেছে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের আইসি মো.রুহুল আমিন।
 
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের জরিপ মতে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় পুরনো রোহিঙ্গা বসবাস করছেন প্রায় সাত হাজার। তবে সম্প্রতি সময়ে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।
 
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা এলাকায় পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে ১০ হাজারের বেশি। গত কয়েকদিনে আরো আড়াই থেকে তিন হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ নতুন করে প্রবেশ করেছে। প্রবেশ করা নতুন রোহিঙ্গারা পুরনো রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
 
অপরদিকে পেকুয়া উপজেলায় সম্প্রতি সময়ে অন্তত তিন শতাধিক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিরা। প্রবেশ করা বেশির ভাগ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন উপজেলার রাজাখালী, টৈটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বিভিন্নজনের বাড়িতে।
 
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম বলেন, পুরনো রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে জরিপ চালিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে কিনা তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/জামান