মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আটক তিন পরিবারের ১১ শিশুসহ ২০ রহিঙ্গাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে এসি গাড়িযোগে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোহিঙ্গারা হলেন, ফয়েজুল ইসলাম (৩৫), আমেনা খাতুন (৭০), রাফিয়া বিবি (১৮), হাফসা বিবি (২৮), আরমান (৭), রুম্মান (৪), আবদুল হান্নান (৩), রতœা (১) ও হাছিনা আক্তার (৬০)। রাখাইন রাজ্যের মেগগিচং থানায় তাদের বাড়ি।
এছাড়া একই উপজেলার ধল্লা রহিম মাতব্বরের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা হলেন, আরাকান রাজ্যের তালাচক থানা এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪০)হাসিনা খাতুন (৩০), মোশারফ হোসেন (১৪), ইয়াসির (১০) শরিফা (৮), হাবিবা (৭), আমেনা (৬০), শরিফা (৮), হিনা (৪)।
অপর দিকে একই বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া আরেক পরিবারের সদস্যরা হলেন ফয়েজ আলী (৪০), খালেদা (২০) ও দুই মাস বয়সি ছেলে আব্দুল্লাহ।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধরা, চারিগ্রাম ও ধল্লা ইউনিয়ন থেকে বুধবার তিন পরিবারের ১১ শিশুসহ ২০ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের সিংগাইর নেওয়া হয়। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় সিংগাইর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনতলায় একটি কক্ষে রাখা হয়।
রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিড় করেন স্থানীয়রা। অনেককেই খাবার ও নগদ অর্থ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
আটক রোহিঙ্গাদের বর্ননামতে তারা সবাই মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু জেলার মন্ডুকাদেরবিল গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর প্রাণভয়ে পালিয়ে আসেন তারা। দৌড়ানোর সময় ওই নারীকে সোনাবাহিনী গুলি করে। গুলিটি একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় ওই নারীকে। তারা জানান, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তারা টেকনাফ সীমান্তে আসেন। সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় এবং পরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পৌঁছেন। পরিচিত এক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে সিংগাইর উপজেলায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন তারা।
ইত্তেফাক/নূহু
