রাষ্ট্র সব মানুষকে সমঅধিকার দিয়েছে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:৫০

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, রাষ্ট্র, সংবিধান ও সরকার ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমঅধিকার প্রদান করেছে। এই অধিকারকে ব্যবহার করতে হবে পাশাপাশি তা আদায়ের জন্য শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, সকল সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যা সকলের সার্বিক উন্নয়নের প্রয়োজনে নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।  

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার সকল পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আরো বলেন, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় আমাদের মাঝে বিভাজন থাকা অস্বাভাবিক নয়। এই বিভাজন যেন এলাকার উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে সেদিকে খেয়াল রেখে রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণসহ উন্নয়নের স্বার্থে এক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে মানুষ তার ন্যায্য পাওনা অর্জনে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও নিশ্চিত করা হয়েছে। এক সময় ইন্দুরকানিসহ এ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি তথা উগ্র ধর্মীয় মনোভাবের কারণে সকল সম্প্রদায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালনের ক্ষেত্রে দ্বিধা-সংকোচে ভুগত। বর্তমানে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় শারদীয় দুর্গা পূজাসহ যেকোনো ধর্মীয় পার্বণ সাড়ম্বরে, উত্সবমুখর পরিবেশে পালন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুবাদে আসন্ন দুর্গাপূজা মহাসমারোহে উদযাপন করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন, একত্রে থাকবেন, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ না করে ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপৃত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল কৃষ্ণ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ননী গোপাল হালদার, ইন্দুরকানি বাজার কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি দুলাল কৃষ্ণ বৈদ্য প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইন্দুরকানির ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল কবির মজনু তালুকদার, জেপি’র কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সালাম বাহাদুর, উপজেলা সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।

এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ইন্দুরকানি উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের দেবিপুর-চন্ডীপুর এলজিইডি সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে মোনাজাতে অংশ নেন। বিকালে এ উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে টেংরাখালী বায়তুল মামুর জামে মসজিদ সংলগ্ন খালের উপর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নবনির্মিত সেতু মন্ত্রী উদ্বোধন করেন। এরপর মন্ত্রী বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পাড়েরহাট গ্রোথ সেন্টার থেকে ঘোপেরহাট ভায়া লাহুরী হাট পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ দু’টি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন প্রমুখ মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে ভান্ডারিয়া-চরখালী সওজ সড়ক থেকে কলোনীবাজার ভায়া ধোপাবাড়ি পর্যন্ত এলজিইডি’র সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর মন্ত্রী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প, সিইআইপি-১, ফেজ-১’ এর প্যাকেজ-২, পোল্ডার-৩৯/২ এর আওতায় নদমূলা খালে স্লুইস গেট নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দু’টি কর্মসূচি শেষে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা আক্তার সুমী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, নদমূলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু প্রমুখ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, পরামর্শক ও উপ-আবাসিক প্রকৌশলী গুলজার হোসেন, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ ইসলাম প্রমুখ।

কাউখালী সংবাদদাতা রবিউল হাসান রবিন জানান, বুধবার রাতে কাউখালীর প্রত্যন্ত গ্রাম হোগলা বেতকায় এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, কেন্দ্র থেকে যে প্রকল্প ভিত্তিক বরাদ্দ আসে তা উপজেলা হয়ে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড-গ্রামের মানুষের কাছে সামান্যই পৌঁছে। এইসব প্রবণতার বিরুদ্ধে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরে মানুষের সচেতন থাকা উচিত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, তিনি যখনই ক্ষমতায় এসেছেন তখনই আমরা নানাভাবে ভাগ্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টা গ্রহণের সুযোগ লাভ করেছি। মন্ত্রী বুধবার রাতে  কাউখালী উপজেলার  সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের হোগলা বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, ’৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়, যা বর্তমানে আরো বেগবান হয়েছে। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশ কেন, কোনো দেশেই সরকারের একার পক্ষে সকল কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সর্বস্তরে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উন্নয়ন কাজে সকলকে সক্রিয় অবদান রাখতে হবে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদ প্রয়োজনের তুলনায় কম। সবাই বিদ্যুত্ চায়। ২০১৮ সালের আগেই মানুষের বিদ্যুত্ চাহিদা পূরণ হবে প্রধানমন্ত্রীর  ঘোষণা অনুযায়ী। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসে যার সদ্ব্যবহার হয় না, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামোগত কাজগুলো দীর্ঘস্থায়িত্ব পায় না। জিআর-টিআর-কাবিটা, কর্মসৃজন প্রকল্প দিয়ে সাময়িক উন্নয়ন ঘটলেও তার সুফল জনগণ পায় না। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ প্রভৃতি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মঠ, যোগ্য, শক্তিশালী হতে হবে।

সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিঞা মনুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, চিড়াপাড়া পার-সাতুরিয়া  ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, শিয়ালকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার মো. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ ফকির প্রমুখ।

পরে মন্ত্রী ওই ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করেন।

এর পূর্বে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং জাতীয় পার্টি জেপি মহিলা পার্টির বাস্তবায়নে ভিটাবাড়িয়া ইউপি সদস্য নাজমুল আলম রাজু গাজীর হাতে ভাণ্ডারিয়া থানা ঘাটে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ইউএনও শাহীন আক্তার সুমী।

ইত্তেফাক/নূহু