বাসস্থান পেয়ে খুশি গোপালগঞ্জের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৯
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের বাসস্থান পেয়ে খুশি গোপালগঞ্জের অসচ্ছল ৬৫টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। বীর নিবাস নামে প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে একটি করে বাসস্থান উপহার দিয়েছেন।
 
পাঁচশ' স্কয়ার ফুটের একতলা ভবনের এ বাসস্থানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য রয়েছে দুটি বেডরুম। একটি রান্না ঘর। একটি বাথরুম ও বারান্দা। সেই সাথে গৃহপালিত প্রাণীর জন্যও একটি ঘর করে দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে।
 
গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এ জেলায় ছয় কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের  আওতায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৭৪ জন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাসস্থান নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩১টি, কোটালীপাড়ায় সাতটি, কাশিয়ানীতে ১৩টি, টুঙ্গিপাড়ায় সাতটি ও মুকসুদপুরে ১৬টি বাসস্থান নির্মাণ করা হচ্ছে।
 
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কাজী সামসুল আলমের স্ত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন। তিনি ২১ বছর আগে মারা গেছেন। আমি অসচ্ছল ভাবে জীবনযাপন করছিলাম। বসবাসের ভালো ঘর ছিলো না। এলজিইডির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পাকা দালানের বাসস্থান উপহার দিয়েছে। গরুর গোয়াল করে দিয়েছেন। সম্মানী ভাতা দিচ্ছেন।
 
গোপালগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠের ইসলামপাড়ার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ আসাদুজ্জামানের ছোট কন্যা মালেকা পারভীন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে আমার বাবা শহীদ হয়েছেন। আমরা তিন বোন। ভাই নেই। আমার বিধবা মা নুরুন্নাহার বেগম অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। তিনি অসচ্ছল ও অসহায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার মায়ের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এলজিইডির মাধ্যমে বাসস্থান করে দিয়েছেন। সম্মানী ভাতা দিচ্ছেন। আমার মা প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় শেষ বয়সে শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছেন। এতে আমার খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
 
গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে ফজলুল হক বলেন, আমরা এ জেলায় ৭৪ অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাসস্থান করে দিচ্ছি। ইতিমধ্যে ৬৫টি বাসস্থান নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। বাকী ৯টি বাসস্থানের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। কাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে এ গুলো বুঝিয়ে দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান