দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় ধর্মপুর শালবন হতে পারে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। বন বিভাগ ও পর্যটন বিভাগ যৌথ উদ্যোগ নিলে এ শালবন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে আর কোন বাধা থাকবে না। এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন এবং ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার লাভের পাশাপাশি এ খাত থেকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। প্রদক্ষেপ নিলে বদলে যাবে বিরল উপজেলার দৃশ্যপট।
দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার ও বিরল উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা ২ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমির উপর গড়ে উঠেছে ঐতিয্যবাহী বিশাল শালবন। এখানকার মনোরম দৃশ্য মানুষকে হাতছানী দেয়। মেঘের সাথে শালবনের সখ্যতা আর সারিসারি শাল গাছ মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। যে কোন মানুষ শালবনে ভ্রমণ করতে এসে মুগ্ধ হয়ে ফিরে যান। শাল পাতার মর্মর শব্দ আর গাছের শাখে শাখে নানা পাখির কলরব এক নৈর্সগিক দৃশ্যের অবতারণা করে যা মানুষের হৃদয়কে ছুয়ে যায়। ধর্মপুর শালবনকে জাতীয় উদ্যেনে রূপান্তর করার কথা অনেক আগে থেকেই এলাকার মানুষ শুনেছে। তবে কবে নাগাদ এই শালবনকে জাতীয় উদ্যোনে পরিণত করবে সরকার এই অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
সবখানে সরকারি জমিও বনবিভাগের জমি দখলবাজরা দখল করছে। কোথাও পেশী শক্তি ও কোথাও রাজনৈতিক শক্তির বলে তারা সরকারি জমি দখল করছে। তবে তুলনামূলক ভাবে বিরল উপজেলায় দখলবাজদের সংখ্যা নেহাৎ হাতেগোনা। কিছু জমি বে-দখল হয়ে গেছে, প্রশাসনের সহায়তায় সে জমিগুলো উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে বলে জানান ধর্মপুর শাল বনের ফরেস্টার গয়া প্রসাদ পাল।
IMG0
স্থানীয় চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার জানান, এই শালবনটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করলে আমদের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় অনেক কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে। বেকারত্ব দূর হবে। তাই সরকার এই বিরলের শালবনটি অতি দ্রুত জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে।
বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর জানান, বিরল উপজেলার ধর্মপুর শালবন একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য সমৃদ্ধ স্থান। মনোরম পরিবেশে দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া দৃশ্যাবলী যে কোন মানুষের মনে দাগ কাটে। ধর্মপুর শালবনকে পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে গোড়ে তোলার জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও বিরল উপজেলার রাস্তাঘাট ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষে ধর্মপুর শালবনকে দ্রুত পর্যটন হিসেবে ঘোষণা দিবে সরকার। এই প্রত্যাশা করেন স্থানীয়সহ দিনাজপুর বাসী।
ইত্তেফাক/এমআই
