রাজশাহীতে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। রাজশাহী বাজারে প্রতিকেজি চাল সর্বনিম্ন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। চালের দর নিয়ন্ত্রণে রবিবার থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি করবে সরকার। মহানগরীসহ উপকণ্ঠের হাট-বাজার গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের পরে দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে চালের দাম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে ঈদের আগে থেকেই ধান-চালের দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দ্বিতীয় দফা এলসির শুল্ক প্রত্যাহার করলেও তা চালের দর নিয়ন্ত্রণে তেমন প্রভাব ফেলেনি। নগরীর কুমারপাড়ার চালের আড়তদাররা জানান, ঈদের আগে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি এলসি ৩৯, মিনিকেট ৫২, আটাশ ৫০ টাকা, মোটা স্বর্ণা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের ১ সপ্তাহ পর তা বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি এলসি ৪১, মিনিকেট ৫৪, আটাশ ৫২ টাকা, মোটা স্বর্ণা ৪২ টাকায়। গত শুক্রবার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি এলসি চাল ৪৮, মোটা স্বর্ণা ৪৮, আটাশ' ৫৭ এবং মিনিকেট ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি এলসি চাল ৫০, মোটা স্বর্ণা ৫০, আটাশ ৬০ থেকে ৬২, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধিতে চরম বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। শুধু বন্যার কারণে নয়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একটি চক্র চালের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ভুক্তভোগীরা বললেন, আমন মৌসুমের নতুন ধান না উঠা পর্যন্ত চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
তবে আশার কথা হচ্ছে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আজ রবিবার থেকে প্রতিটি জেলা সদরে ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করবে সরকার। রাজশাহীর সহকারী জেলা খাদ্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার থেকে রাজশাহী মহানগরীর ১৫টি পয়েন্টে ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রি করা হবে। শনিবার বাদে সপ্তাহে ৬দিন প্রতিটি ডিলার ১৫ টাকা কেজি হিসেবে প্রতিদিন ১ মেট্রিকটন (১ হাজার কেজি) করে চাল বিক্রি করবে। পরিবার প্রতি একজন সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি পর্যন্ত চাল কিনতে পারবেন।
ইত্তেফাক/জামান
