চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর ধোলাইরপাড়-কুতুবখালী খালটি। এক সময়ের পাঁচ কিলোমিটার খালটির প্রশস্ততা ছিলো ১২০ ফুট। বর্তমানে তা এক কিলোমিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। এর প্রশস্ততা ১০ ফুটে এসে পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই দায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাল দখল করে কাঁচা-পাকা দালান-কোঠা, ঘর-বাড়ি, বহুতল ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। অবশিষ্ট খালকে ঘিরে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে।
ধোলাইপাড়-কুতুবখালী খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে বহু আগেই। খালের উভয় পাড়ে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক দোকান, কাঁচা বাজার, মুরগির মার্কেটসহ নানা স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি উদ্ধারে কেউ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে না। গত এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি সংস্কার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযানে নামে; কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযান বন্ধ হবার সুবাদে অবৈধ দখলকারীরা পুনরায় খালের দুই পাড় দখল করে নেয়।
এক সময় প্রাচীন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এই খালটির উত্পত্তি। ধোলাইখাল থেকে ধোলাইরপাড় হয়ে কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ি এসে মিশেছে এই খালটি। স্বাধীনতার বহু বছর পরও খালটির অস্তিত্ব ছিলো বহমান। নব্বইয়ের দশকের পর খালটি দখল হতে থাকে। অবৈধ দখলের গ্রাসে খালটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঝে খালটি খননের উদ্যোগ নিলেও অজ্ঞাত কারণে তা থেমে যায়। পরবর্তীতে আর খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সে সময়ে খালের উভয় পাড়ের বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়; কিন্তু উচ্ছেদের পর উচ্ছেদকৃত স্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করায় ফের দখল হয়ে গেছে খালটি। অবশিষ্ট খালের অংশটিও ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
কুতুবখালীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আফজালুর রহমান বলেন, খালটি কার্যত এই এলাকার বর্জ্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। খালটি রক্ষার দায় যেন এখন আর কারো নেই। তিনি খালটি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে তার উভয় পাড়ে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় প্রকৌশলী এস এম মহসীন রেজা বলেন, কুতুবখালী খালটিকে অবৈধ দখলমুক্ত করে এর সংস্কার এবং উভয় পাড় বাধাই জরুরি হয়ে পড়েছে। এক কিলোমিটার এই খালের উপর বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে এর উপর দিয়ে পাকা রাস্তা করা যেতে পারে। এতে খালটি রক্ষা পাবে। অন্যদিকে খালের উপর রাস্তা নির্মিত হলে এলাকার যানজট বহুলাংশে কমে আসবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. রাসেল খন্দকার বলেন, জনগণের সচেতনতা ছাড়া খাল কিংবা জলাশয় রক্ষা করা সম্ভব নয়। ধোলাইরপাড়-কুতুবখালী খালটি গত বছর খননসহ অবৈধ স্থাপনা মুক্ত করা হয়েছিলো; কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে খালটি আবার দখল হয়ে গেছে। তার জানামতে খালটি সংস্কার কিংবা অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই।
ইত্তেফাক/নূহু
