সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যৌতুকের দাবীতে শারমিন আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায় স্বামী গ্যাদন আলী পলাতক রয়েছেন।
এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাড়ে তিন বছর আগে পাশের শাহজাদপুর উপজেলার চর কৈজুরী গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবু সাইদের মেয়ে শারমিন আক্তারের সাথে সৈয়দপুর গ্রামের ছবেদ আলীর বখাটে ছেলে গ্যাদন আলীর সাথে বিয়ে হয়। এরপর থেকেই জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদের এলাকায় ডান হস্ত হিসেবে পরিচিত গ্যাদন আলী ইয়াবা ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী হওয়ায় তারই ছত্র ছায়ায় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
গত বছর খানেক ধরে স্ত্রীর কাছে গ্যাদন ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে। দরিদ্র পরিবারের তা দেয়া সম্ভব নয় বলে শারমিন জানালে মাঝে মাঝেই বেদম মারধর করতো। এ নিয়ে অতীতে ২টি মামলা হলে সামাজিক ভাবে মীমাংসা করা হয়। এরই এক পর্যায়ে শুক্রবার রাতে শারমিনকে বেদম পিটিয়ে ও পায়ে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে গুরুতর আহত করা হলে খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে দুপুরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এঘটনায় নিহতের পিতা আবু সাইদ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
নিহতের চাচাতো বোন স্থল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা সালমা জাহান শিল্পী ও পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে জানান, নানা ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করতো বলে আমরা এর আগেও সন্ত্রাসী গ্যাদনের বিরুদ্ধে ২টি নির্যাতন মামলা করেছিলাম। কিন্তু পারিবারিক ভাবে তা মীমাংসা করা হয়েছে। এতেও সে ভাল হয়নি। সে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী সুলতানের লোক বলে ভয় ভীতি দেখাতো। আমাদের বোনকে প্রায়শই নির্যাতন করতো। হত্যাকাণ্ডের পরও ওই চেয়ারম্যান মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য অপতৎপরতা চালিয়েছে। আমরা গ্যাদনের আশ্রয় দাতাদেরও বিচার চাই।
অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য হাজী সুলতান মাহমুদ চেয়ারম্যানকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, 'নির্যাতন করে ওই গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পেয়েছি। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বামী ও অন্যান্য আসামীদের আটক কবরো।'
ইত্তেফাক/জামান
