শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:৪৫
 
মাত্র কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। আসন্ন সনাতনী সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিনরাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃত্ শিল্পীরা। পূজারিদের মতে, ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজা এবং  ৩০ সেপ্টেম্বর  পালিত হবে বিজয়াদশমী। ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—
 
চন্দনাইশ: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় এ বছর প্রায় ১০৮টি পূজামণ্ডপে একসাথেই চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আর  প্রতিমা তৈরি কাজের ব্যস্ততার কারণে কারো সাথে কথা বলার সুযোগ নেই মৃিশল্পীদের। প্রতিমা তৈরির কারিগর বা মৃিশল্পী চট্টগ্রাম শহরের জীবন পালের ছেলে গৌতম পাল জানান, পারিবারিক অন্য কাজ কর্মের পাশাপাশি পৈতৃক পেশাকে ধরে রাখতে প্রতিমা তৈরির কাজ করে যাচ্ছি। কেবলমাত্র দুর্গাপূজার সময় প্রায় একমাস হাতে প্রচুর কাজ থাকে।
 
হাটহাজারী: এ বছর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০২টি মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে দূর্গাপুজার প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির প্রায় শেষ পর্যায়ে এখন চলছে রঙ-তুলির আঁচড়ে দেবীকে সু-সজ্জিত করার কাজ। মহাষষ্ঠী থেকেই পূজা মণ্ডপগুলো ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দে মুখরিত হবে। হাটহাজারী পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার মোট ১০২টি পূজামণ্ডপে এবার পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে ৪টি, ধলইয়ে ১৪টি, মির্জাপুরে ১২টি, নাঙ্গলমোড়াতে ২টি, গুমানমর্দ্দনে ২টি, পৌরসদরে ৯টি, মেখলে ১১টি, ফতেপুরে ৩টি, চিকনদণ্ডী ইউনিয়নে ২৬টি, উত্তর মাদার্শায় ৮টি, দক্ষিণ মাদার্শায় ৮টি, শিকারপুরে ৭টি এবং বুড়িশ্চর ইউনিয়নে ৬টি মণ্ডপে পূজা হবে।
 
রাঙ্গুনিয়া: রাঙ্গুনিয়ায় মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কারিগররা। রঙ তুলির আঁচড় দিয়ে দুর্গা দেবীর মূর্তিকে পরিপূর্ণ রূপ দিচ্ছেন শিল্পীরা।  কোথাও কোথাও পোশাক আর গহনা পড়ানোর কাজ চলছে। রাঙ্গুনিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের  সহসাধারণ সম্পাদক মিল্টন চক্রবর্তী টিপু জানান, এবার ‘উপজেলার ১৪৯টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে পূজা অর্চনা।
 
মিরসরাই: মিরসরাইয়ে এবছর ৮২টি মণ্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২টি মন্দিরে ঘটপুজা (প্রতিমাবিহীন) হবে। পূজা মণ্ডপগুলোতে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দু’টি থানার অধীনে পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৮২টি পূজা মন্ডবের মধ্যে ৪৬টি পূজা মন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। বাকিগুলো থাকবে মিরসরাই থানা পুলিশ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মৃত্ শিল্পীদের নির্ঘুম রাত কাটছে। মাদারিপুর জেলার থেকে মিরসরাইয়ের খিল হিঙ্গুলী দূর্গা মন্দিরে প্রতিমার তৈরির করতে আসা মৃত্ শিল্পী গনেশ পাল জানান, এবছর তিনি প্রায় ৩০টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছেন। ইতিমধ্যে সব কয়টি প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রংয়ের কাজ।
 
ইত্তেফাক/কেকে