বন্যার্ত ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:৩৪
বন্যার্তদের সহায়তা প্রদান ও বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছে সুশীল সমাজ ও বেশ কিছু রাজনীতিবীদ। জাতীয় সংকট বা দুর্যোগকালীন সময়ে সমালোচনার থেকে বেশি সাহায্য করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা। চলতি বছরে বন্যায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করলেও কার্যকরভাবে বন্যার্তদের সহায়তায় বিএনপি এগিয়ে আসেনি বলে দাবি করছে এই সকল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
 
জাতীয় দুর্যোগ ও সংকটে যেখানে দল-মত নির্বিশেষে কাজ করা উচিত সে সময় বিএনপি অকারণে সরকারের প্রতিটি কাজের সমালোচনা করেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। 
 
তাদের দাবি, অকারণ এই সমালোচনা দুর্যোগ মোকাবেলার জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি পথে অন্তরায়।
 
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারাবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. দিলারা জাহিদ বলেন, দুর্যোগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট একটা ফান্ড থাকে। তবে দুর্যোগের ভয়াবহতা যদি বেশি হয় তখন সেই ফান্ড পুরো সমস্যার ব্যবস্থাপনা করতে পারে না। সেই কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আরো কিছু বরাদ্দ নেয়া হয়। আমরা মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি, সরকার কখনো বসে থাকে না, যথাসাধ্য চেষ্টা করে। চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কিন্তু সরকার কম চেষ্টা করছে না। সেক্ষেত্রে আমরা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতার কোনো অভাব দেখি না। এরকম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরকারের সমালোচনা করা উচিত নয়। সরকার সব সময় তার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে। তাছাড়া সবসময় এর দায় সরকারের তাও নয়। সমাজেরও কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তাই সরকারের সমালোচনা না করে সহযোগিতা করা উচিত।
 
এ সময় তিনি আরো বলেন, সমালোচনা হলে সরকারের এই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তো আর ভেঙে যাচ্ছে না। সমালোচনা সিস্টেমে তেমন প্রভাব ফেলে না। তবে হ্যাঁ, সামর্থ্যের বাহিরে সরকারের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগও কিছু করতে পারবে না। তাই সকলের উচিত এ সময় সরকারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া।
 
এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের বাহিরে থাকা রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠান দেশের বাহিরের কিছু নয়। তারা দেশেরই জনগণ, দেশেরই প্রতিনিধিত্বকারী বা প্রতিষ্ঠান। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসব দল বা প্রতিষ্ঠান সরকারের সাথে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কাজ করবে এটাই কাম্য। সব রাজনৈতিক দলের নীতিই হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। তাই যখনই যে সরকার থাকুক এরকম পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা।
 
IMG0
 
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কারণে তারা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। আমার মতে এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যু। এই সংকট থেকে বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার, তার সমালোচনা না করে সহায়তা করা উচিত। আর এই ইস্যু নিয়ে কোনভাবেই রাজনীতি করা উচিত নয়। এতে জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয়।
 
এদিকে বন্যার্তদের ত্রাণ কার্যক্রম ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল। রোহিঙ্গা বলেন আর বন্যার্তদের সহায়তা বলেন, কোনো ইস্যুতেই তারা মাঠে নাই। কোনো জেলা উপজেলা ইউনিয়নে আমরা তাদের নেতা কর্মীদের দেখতে পাই না। তারা শুধু মাত্র মিডিয়াতে নিজেদের ধরে রাখতে চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজই করছে না।
 
IMG1
 
তিনি বলেন, শুধু মিডিয়া প্রচারণা আওয়ামী লীগের রাজনীতি নয়। আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য। আমরা সব সময় মানুষের পাশে আছি। এই যে বন্যা বা রোহিঙ্গা ইস্যু, আমরা কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা সেটা নিয়েই ব্যস্ত আছি।
 
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিএনপি নিজেদের কোনো দায়িত্ব পালন করছে না। ত্রাণের নামে রাজনীতি করছে। এতো বড় একটা শরণার্থী ইস্যু সেই জায়গায় ত্রাণ দিতে হলে একটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তারা সেটাও করেনি। তা না করে তারা ত্রাণের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এই জাতীয় সংকটময় ইস্যু নিয়েও রাজনীতি করতে চায়। তাদের লক্ষ্য ত্রাণ নয়, বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। অতীতেও তাদের এই ধরনের রেকর্ড নাই। তাদের লক্ষ্য একটাই- তা হলো রাজনীতি।
 
একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, আমাদের গ্রামের দেশে একটা কথা আছে কাজ না থাকলে অকাজ করে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখনো লন্ডনে। তার আসার কথা ছিল আরো আগে। সেটা তিনি বাতিল করেছেন। তিনি একটা দলের নেত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সফর সংক্ষেপ করে তার এখানে আরো দ্রুত আসা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিএনপি মহাসচিবও এসি রুমে বসে শুধু কথা বলে যাচ্ছেন। তারা সরকারকে সহায়তা করার কথা বলছে। আমার মনে হয়, আপাতত তারা আজেবাজে কথা না বললেই সরকারের বেশি সহায়তা হয়।
 
IMG2
 
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির তৎপরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি নিজে সেখানে ৬ দিন ছিলাম। কাল আবার যাবো। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৪ দিন। তিনিও মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ করে আবারো যাবেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হাসিনা নিজেও সেখানে গিয়ে শরণার্থীদের অবস্থা দেখে এসেছেন। তাকে কিন্তু দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেতে নিষেধ করেছিল। কারণ যে জায়গায় তিনি গিয়েছেন সেই কুতুপালং মায়ানমারের ফায়ারিং রেঞ্জের মধ্যে। তারপরও সব কিছু উপেক্ষা করে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে গিয়েছেন। তাদের (রোহিঙ্গাদের) পাশে দাঁড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলও আজ তার ভূমিকার প্রশংসা করছে। কিন্তু তারা (বিএনপি) কিছু না করে শুধু শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
 
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন শুধু ইস্যু পেতে চায়। সহায়তা করতে চাইলে সরকারের মাধ্যমেও সহায়তা করা যায়। তারা নিজে থেকে মাত্র কয়েক ট্রাক ত্রাণ সাহায্য নিয়ে গেলে তাদের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ। এত স্বল্প ত্রাণ ব্যক্তি উদ্যোগে নিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
 
ইত্তেফাক/রেজা