ব্রহ্মপুত্রের পানিপ্রবাহ তথ্য ভারতকে দিচ্ছে না চীন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:০১
চীন ও ভারতের মধ্যে ডোকলাম সংকট নিয়ে সৃষ্ট হওয়া উত্তেজনার অবসান ঘটলেও এখন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সংকট। নয়াদিল্লি জানিয়েছে পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী চলতি বর্ষামৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদ পানি প্রবাহের হাইড্রোলজিকাল তথ্য, বণ্টন ও পানির গুণাগুণ নিয়ে কোন তথ্য ভারতকে দেয়নি চীন।
 
ব্রহ্মপুত্র নদ চীনের তিব্বতে উৎপন্ন হয়ে ভারত এবং ভাটিতে বাংলাদেশে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তাদের হাইড্রোলজিক্যাল স্টেশনগুলো নতুন করে আপগ্রেড করা হচ্ছে যার কারণে তারা কোনো ডাটা ভাগাভাগি করতে পারছে না। তবে বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের তথ্য ভাগাভাগি অব্যাহত রেখেছে চীন।
 
ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয় যাতে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ মে থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে হাইড্রোলজিক্যাল ডাটা শেয়ার করবে যা প্রধানত ভাটিতে থাকা এই দুই দেশে বন্যা সতর্কতা দেয়া হবে। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেছেন, এই বছরের ১৫ মে থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি আমরা। আমরা এর টেকনিক্যাল কারণটা জানি না তবে বিদ্যমান ব্যবস্থায় চীনের আমাদের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করার কথা।
 
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং গত সপ্তাহে বলেছেন, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাইড্রোলজিক্যাল স্টেশনগুলো পুনঃনির্মাণ ও উন্নয়নকাজের কারণে চীন ডাটা সংগ্রহের অবস্থায় নেই। তবে বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বিবিসিকে বলেছেন, কয়েকদিন আগেও বাংলাদেশ চলতি মৌসুমেও ব্রহ্মপুত্রের পানির লেভেল ও পানি ছাড়ার পরিমাণের তথ্য চীন থেকে পেয়েছে। আমরা তিব্বতের তিনটি হাইড্রোলজিক্যাল স্টেশন থেকে ২০০২ সাল থেকে এই তথ্যগুলো পাচ্ছি এবং চলতি বর্ষা মৌসুমেও চীন এই তথ্যগুলো আমাদের জানিয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মোহাম্মদও এ কথা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন। তবে ভারতকে কবে নাগাদ এই তথ্য প্রদান পুনরায় শুরু করা হবে সেই বিষয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গেং শুয়াং বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডর অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে কবে থেকে হাইড্রোলজিক্যাল ডাটা ভাগাভাগি পুনরায় শুরু করা হবে।
 
IMG0
 
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে ভারত ২০০৬ সালে ব্রহ্মপুত্র নদীর ডাটা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। ভারত শুষ্ক মৌসুমেও পানি প্রবাহের তথ্য চেয়েছিল, কারণ তাদের ভয় শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ ধরে রাখবে চীন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের অঞ্চলগুলো। চীনে ইয়ারলুং জাংবো নামে পরিচিত নদীটির উজানে বেশ কয়েকটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। চীন বলেছে, তারা ভাটিতে থাকা দেশগুলোর ক্ষতি করে পানি সংগ্রহ বা দিক পরিবর্তন করবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আশঙ্কা চীন হুট করে উত্তর পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণ পানি ছেড়ে দিতে পারে। আসামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে খুব কম সময়ের মধ্যে পানির উচ্চতা বাড়া ও কমার বিষয়টি দেখেছেন। এছাড়া এখানে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতাও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।
 
ভারতের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বিবিসিকে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যে চীনকে বোঝাতে সক্ষম হব যে তারা যেন শুষ্ক মৌসুমেও আমাদের পানির তথ্য প্রদান করে। কিন্তু তারা এখন বর্ষা মৌসুমেও পানি প্রবাহের তথ্য দিচ্ছে না, এতেই চীনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার।
 
গত বছর চীন ব্রহ্মপুত্রের পানির উৎস এক নদীর পানি বন্ধ করে সেটি তাদের সবচেয়ে বড় পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহার করা শুরু করে। এর কয়েকদিন আগে জঙ্গি হামলার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানি ভাগাভাগি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছিল ভারত। আর বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তাসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি ভাগাভাগির চুক্তির বিষয়টি ঝুলে আছে। ক্রমশই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনীতিতে পানি একটি বিরাট হাতিয়ার হয়ে উঠছে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির